বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই মা নতুন সম্পর্কে জড়ালে শিশুর দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে পারেন না: হাইকোর্ট

0
court hammer

খবর অনলাইন ডেস্ক: গত মাসে দায়ের হওয়া একটি বিশেষ মামলায় উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। কোনো মহিলা যদি বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তা হলে নিজের শিশু সন্তানের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না তিনি।

মামলাটির শুনানিতে বিচারপতি জেজে মুনির বলেন, “যে ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদ না পেয়ে কোনো মহিলা স্বামীর বাড়ি থেকে দূরে চলে গেছেন এবং অন্য ব্যক্তির সঙ্গে একটি নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন (সম্ভবত তিনি যেটাকে দ্বিতীয় বিবাহ হিসাবে বিশ্বাস করেন) তিনি নিজের শিশু সন্তানকে বঞ্চিত বা অবজ্ঞা করতে পারেন না”।

আদালত পর্যবেক্ষণ আরও বলা হয়েছে, “মায়ের বর্তমান অবস্থান থেকে শিশু সন্তানকে বঞ্চিত করা হলে তার সামগ্রিক বৃদ্ধির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে নাবালকের বড়ো হয়ে ওঠার বিষয়েই উদ্বেগ দেখা দেবে”।

মামলার উৎস

একটি আবেদনে রামকুমার গুপ্তা নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর স্ত্রী সংযোগিতা বিবাহবিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। যে কারণে তিনি তাঁদের ছেলে আনমোলের উপর থেকে তার অধিকার হারিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, অপরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে শিশু সন্তানের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই মহিলা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। আইনত বিবাহিত স্বামীকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন তিনি। ফলে শিশুসন্তানের কল্যাণে তাকে বাবার কাছে রাখতে চেয়ে ওই আবেদনটি জমা পড়েছিল হাইকোর্টে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা যেতে পারে, মামলাটির শুনানি চলাকালীন সংযোগিতা আদালতকে জানিয়েছিলেন, গুপ্তা এক জন অমানবিক ব্যক্তি। তিনি স্ত্রীর উপর নিষ্ঠুর আচরণ করতেন, যে কারণে সংযোগিতা তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

আদালত যা বলল

শিশু সন্তানটি মায়ের নতুন বাড়িতে গিয়ে নিরাপদে থাকবে কি না অথবা সেখানে তার কল্যাণ নিশ্চিত হবে কি না, সে সব নির্ধারণ করা উদ্বেগের বিষয়।

সংযোগিতা এবং তাঁর নাবালক শিশু আনমোলের সঙ্গে কথাবার্তার পরে আদালত বলে, “মা যে ভাবে নতুন বাড়িতে তাঁর পরিস্থিতি বিশদ ভাবে বর্ণনা করেছেন, আদালত অনুভব করে যে আপাতত নাবালক তার মায়ের নতুন পরিবারের সঙ্গে ভালভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে”।

বিচারপতি বলেন, “নাবালকের যত্নের ব্যাপারে আদালত মনে করে বাবার তুলনায় এগুলি মায়ের হাতে আরও বেশি সুরক্ষিত হতে পারে”। তবে একই সঙ্গে সন্তানের উপর বাবার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি দু’মাসের যে কোনো একটি রবিবার আনমোলকে সঙ্গে নিয়ে সংযোগিতা কানপুরে গুপ্তার বাড়িতে যেতে বাধ্য থাকবেন।

আরও পড়তে পারেন: হ্যাকাররা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিলে ব্যাঙ্ক দায়ী হবে, গ্রাহক নন! বড়ো সিদ্ধান্ত জাতীয় গ্রাহক কমিশনের

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন