মাউন্ট আবু ও আহমেদাবাদ: রবিবার বৃষ্টি হয়েছিল ৭৭০ মিমি, সোমবার বৃষ্টি হল ৭৩০ মিমি। অতীতের বৃষ্টির সমস্ত  রেকর্ড ভেঙে দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজস্থানের শৈলশহর মাউন্ট আবু। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আরও কয়েকটি জেলায়।

গোটা রাজ্যের তুলনায় এমনিতে বেশি বৃষ্টি হয় মাউন্ট আবুতে। জুলাইয়ে শহরে বৃষ্টি হওয়ার কথা ৫৭৩ মিমি, কিন্তু এ বার মাত্র দু’দিনেই পনেরশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তুমুল বৃষ্টির ফলে উপচে গিয়েছে শহরের বিখ্যাত নক্কি লেক। অন্য দিকে জায়গায় জায়গায় ধসের ফলে আবু রোড থেকে মাউন্ট আবু সংযোগকারী রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত।

শুধু মাউন্ট আবুই নয়, প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজ্যের জোধপুর, পালি, জালোর এবং বারমের জেলা। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারে নেমেছে বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল। এখনও পর্যন্ত দুশোর বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল। এই সবের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। এখনই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং আগামী দুই থেকে তিনদিন ভারী থেকে অতি ভারী, এমনকি চরম অতি ভারী বৃষ্টি চলবে রাজ্য জুড়ে। প্রবল বৃষ্টি হতে পারে মরুশহর জৈসলমেরেও।

প্রবল বৃষ্টিতে গুজরাতে বন্যা পরিস্থিতি ঘোরালো, পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠেছে পড়শি রাজ্য গুজরাতেও। রাজ্যের সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বনসকন্থা জেলার দিসায়। সেখানে দু’ দিনে বৃষ্টির পরিমাণ ৫০০ মিলিমিটারের কিছু বেশি।

অতি বৃষ্টির ফলে সবরমতী নদীর জল উপচে বানভাসি হয়ে পড়ছে বনসকন্থা, সবরকন্থা, আনন্দ, পাটন এবং ভালসাদ জেলার বিভিন্ন অংশ। শুধুমাত্র বনসকন্থা জেলাতেই বন্যাকবলিত ১১,০০০ মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বন্যায় গুজরাতে মৃতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে।

রেললাইনের ওপর দিয়ে জল যাওয়ার ফলে ভেঙে পড়েছে আহমেদাবাদ-দিল্লি রেল যোগাযোগ। সোমবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিলেও আহমেদাবাদে ফিরে আসতে হয় আহমেদাবাদ-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসকে। বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে আকাশপথে পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এই প্রবল বৃষ্টির জন্য দক্ষিণ রাজস্থান এবং উত্তর গুজরাতের ওপর থাকা একটি নিম্নচাপকেই দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নিম্নচাপ অক্ষরেখা। রাজস্থানের পাশাপাশি আগামী দু-তিন দিন প্রবল বৃষ্টি চলবে গুজরাতেও।

উল্লেখ্য, দক্ষিণবঙ্গে চলতে থাকা বৃষ্টির জন্যও এই নিম্নচাপটি অনেকাংশে দায়ী। গুজরাত এবং রাজস্থানের ওপর ঘাঁটি গেড়ে থাকার ফলে দক্ষিণবঙ্গের ওপর থাকা নিম্নচাপটি নড়তে পারছে না। তাই বৃষ্টি হয়েই চলেছে এখানে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন