নয়াদিল্লি : প্রত্যক্ষ ঘটনাকে মিথ্যে অভিযোগ বলে উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় নকভি বলেন, আলওয়ারে গোরক্ষা বাহিনীর হাতে কেউই নিহত হয়নি। অন্তত বসুন্ধরা রাজে সরকারের কাছে এমন কোনো অভিযোগ নেই। তাঁর সরকার সংবাদ মাধ্যমের প্রচারিত এই খবর স্বীকার করেনি। সংবাদ মাধ্যমের হাত ঘুরে এমন সংকেত মানুষের কাছে না পৌঁছোনোই ভালো, যে সরকার এই জাতীয় ঘটনা সমর্থন করে। সরকার কোনো বেআইনি কাজ কখনওই বরদাস্ত করবে না, রাজ্যসভায় বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। 

নকভির এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সমস্বরে প্রতিবাদ করে ওঠে বিরোধী পক্ষ। এ দিন বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, ওই রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থা চলছে। নকভি ঠিকমতো খবর রাখেন না। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গোরক্ষা বাহিনীর প্রহারে এক জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এনেছে। 

এর আগে রাজস্থানের গৃহমন্ত্রী গুলাব চন্দ কাটারিয়া এই হত্যার জন্য দু’ পক্ষকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, গরুর চোরাচালান একটা অপরাধ। তাই এক পক্ষের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মামলা দায়ের করা হয়। অন্য পক্ষ নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়েছে বলে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। ঘটনায় জড়িত তিন জন হামলাকারীকে গত রাতে গ্রেফতারও করা হয়। সে দিনের গোটা ঘটনা অনলাইনে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। অথচ সেই ঘটনাকে বেমালুম ‘ঘটেইনি’ বলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাকভি।

আরও পড়ুন : গোরক্ষা বাহিনীর প্রহারে খুন এক ব্যক্তি, মন্ত্রী বললেন দু’পক্ষই দোষী

প্রসঙ্গত, শনিবার জয়পুরের মেলা থেকে গোরু কিনে নিয়ে হরিয়ানা ফিরছিলেন বছর পঞ্চান্নর পেহলু খান ও তাঁর সঙ্গীরা। তখনই গোরক্ষা বাহিনীর কবলে পড়েন তাঁরা। গোরুর দুধের ব্যবসা করা আর খামার খোলার জন্য এই গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান তাঁরা। নিজেদের পরিচয়ও দেন এবং গরু কেনার বৈধ কাগজপত্র দেখান। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। গোরক্ষা বাহিনী তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। মারধর করেন। গুরুতর ভাবে আহত পেহলু খান অবশেষে মঙ্গলবার প্রাণ হারান।

কাটারিয়া বলেন, গো হত্যার আটকানোর জন্য গরু নিয়ে যাওয়ার ওপর এই নিষেজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গরু নিয়ে যেতে দেখলে পুলিশ গরুগুলিকে আটক করে গোশালায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here