ব্রজেশ ঠাকুর।

ওয়েবডেস্ক: তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর। কোনো কিছুকেই তিনি পরোয়া করেন না। আর তিনি হয়তো ভাবতেই পারেননি জেলখানায় ‘সারপ্রাইজ চেক’ হতে পারে। তাই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন জেলের ভিজিটির্স এরিয়ায়। অথচ তাঁর থাকার কথা জেল হাসপাতালের বিছানায়। তিনি ব্রজেশ ঠাকুর। বিহারের একটি হোমের ৩৪ জন নাবালিকাকে ধর্ষণ ও  অত্যাচারে  মূল অভিযুক্ত তিনি।

মুজফ্‌ফরপুর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং পুলিশ অফিসারা শনিবার যখন মুজফ্‌ফরপুর সেন্ট্রাল জেল ‘হঠাৎ পরিদর্শনে’ যান তখন তাঁরা ব্রজেশ ঠাকুরকে ভিজিটির্স এরিয়ায় ঘুরে বেড়াতে দেখে অবাক হয়ে যান। কারণ তখন তাঁর জেল হাসপাতালের বিছানায় থাকার কথা। অফিসাররা তাঁকে তল্লাশি করে দু’টি পাতা আটক করেন। ওই দু’টি পাতায় ৪০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও ফোন নম্বর লেখা ছিল। এঁদের মধ্যে রাজ্যের এক জন মন্ত্রীরও নাম আছেন। ব্রজেশ ঠাকুরের কাছে মোবাইল ফোন নেই। তা হলে তিনি কী করে ফোনগুলো করেন, সেই নিয়ে ধন্দে অফিসারেরা। হয় তিনি জেল সুপারের ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করেন অথবা অন্য কারও মোবাইল থেকে ফোন করেন।

আরও পড়ুন ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না সুনীল গাভাসকর, কেন?

ব্রজেশ ঠাকুরের এনজিও বিহারে বেশ কিছু হোম চালায়, যেখানে নিরাশ্রয় নাবালিকাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। ওই সব হোমে গত চার বছর ধরে নাবালিকাদের মারধর, অত্যাচার, এমনকি ধর্ষণও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ব্রজেশ অন্যতম। গত ২ জুন ব্রজেশকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাঁকে জেরা করার সুযোগ পায়নি বললেই চলে, কারণ গ্রেফতারের পরেই তাঁকে বিচারক জেল হেফাজতে পাঠিয়ে দেন। যে ৭০ দিন মতো তিনি জেলে আছেন, তার মধ্যে মাত্র পাঁচ দিন বন্দিদের ওয়ার্ডে ছিলেন। তার পরেই তাঁকে অসুস্থতার জন্য জেলের মেডিক্যাল ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়।

ব্রজেশের বিরুদ্ধে পুলিশ যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে মেয়েদের ওপর অকথ্য অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে। তাদের মাদক দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণ করা হত। বিছানায় নগ্ন হয়ে শোওয়ার জন্য বাধ্য করা হত। ফুটন্ত জলের ছ্যাঁকা দেওয়া হত।

আরও পড়ুন ঘুষ নেওয়া রুখতে নয়া দাওয়াই, ২০০ টাকার বেশি থাকবে না পুলিশের পকেটে

ব্রজেশ ঠাকুরের ব্যাপারস্যাপার নিয়ে রাজ্যে রাজনীতির পারদ ক্রমশই চড়তে থাকে। বিরোধী দলের নেতা তেজস্বী যাদব ক্রমশই চাপ বাড়াতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ওপর। তাঁর প্রশ্ন ছিল, তাঁকে জেরা করতে চেয়ে পুলিশ কেন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে না? মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে ২০টি প্রশ্ন নিয়ে জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন তেজস্বী। তাঁর অন্যতম প্রশ্ন, ঠাকুরের যে সংবাদপত্র রয়েছে তার সার্কুলেশন ২০০ থেকে ৪০০ কপি। তা হলে সেই কাগজে লাখ লাখ টাকা খরচ করে তাঁর অফিসারেরা কেন বিজ্ঞাপন দেন তা মুখ্যমন্ত্রী খোলসা করে বলুন। শেষ পর্যন্ত ব্রজেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার মুখ্যমন্ত্রী তুলে দেন সিবিআইয়ের হাতে। এই সপ্তাহেই নীতীশ মন্ত্রিসভার সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে এই ইস্যুতে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর স্বামীর সঙ্গে ব্রজেশ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন