Abuse

ওয়েবডেস্ক: ইসলাম ধর্মাবলম্বী বাবা আর হিন্দু মায়ের ছেলের ধর্ম কী হতে পারে? সহজ নিষ্পত্তির জন্য এই ভার ছেড়ে দেওয়া হয় সন্তানের উপরেই। সে তার মর্জিমতো বেছে নিতে পারে যে কোনও একটি ধর্ম। কিন্তু সেই সুযোগ সন্তানকে দিতে নারাজ মুম্বই-নিবাসী আসিফ শাহবাজকর। ‘লাভ-জিহাদি’ এই স্বামী তাই বছর সাতেক ধরে অকথ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন স্ত্রী রশ্মির উপর। তাঁর দাবি, রশ্মিও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুন! তাহলেই ছেলের অন্য ধর্ম গ্রহণের পথে কাঁটা পড়বে। শুক্রবার বান্দ্রা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন মডেল রশ্মি। জানিয়েছেন, রাজি না হওয়ায় তাঁকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার বান্দ্রা থানায় যখন আসেন রশ্মি, তখনই তিনি ছিলেন যথেষ্ট বিপর্যস্ত। মানসিক ভাবে তো বটেই, এমনকী শারীরিক দিক থেকেও। পুলিশকে তিনি জানান, থানায় আসার আগে তিনি এক প্রস্থ মার খেয়েছেন স্বামীর হাতে। তাঁকে আছড়ে ফেলে বাসনকোসন দিয়ে মারধর করা হয়। কোনোমতে অভিযোগ দায়ের করা হলেই পুলিশ রশ্মিকে নিয়ে যায় কাছাকাছি এক হাসপাতালে। এখনও সেখানে চিকিৎসা চলছে তাঁর।

Mumbai Model

রশ্মির বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে তিনি বিয়ে করেন আসিফ শাহবাজকরকে। প্রথম দিকে তাঁর বিবাহিত জীবনে ধর্মপরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা তেমন ছাপ ফেলেনি। ২০১০ সালে একটি ছেলে জন্মানোর পর ধীরে ধীরে শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন। ভাল কথায় কাজ না হওয়ায় নিয়মিত ভাবে তাঁকে মারধর করা হতে থাকে।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে- এতগুলো বছর কেন এই নির্যাতন সহ্য করলেন রশ্মি! তার উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ছেলের মুখ চেয়েই এই অশান্তির সংসারে টিঁকে ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ছেলেকেও তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বামীকে ‘লাভ-জিহাদি’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। রশ্মির বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, আসিফ সম্প্রতি আরও এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেছেন। এবং সেই তরুণীকেও ইতিমধ্যেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেছেন তিনি। এটাই নাকি তাঁর মানুষকে ইসলামের পথে নিয়ে আসার পন্থা। প্রথমে ভালবাসার ফাঁদে ফেলা, তার পর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য জবরদস্তি। সেই জন্যই আর থাকতে না পেরে অবশেষে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

রশ্মি এই ঘটনায় শুধু আসিফই নয়, অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্বামীর বন্ধু মুনিরের দিকেও। বান্দ্রা পুলিশ আসিফ ও মুনিরের নামে মামলা দায়ের করেছে। যদিও ঘটনাটি নিয়ে কোনো বিবৃতি মেলেনি আসিফের তরফ থেকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here