মুম্বইয়ের বাড়ি ভেঙে মৃত বেড়ে ১৭, গ্রেফতার শিবসেনা কর্মী

0
176

মুম্বই : মুম্বইয়ের ঘাটকোপারের সিদ্ধিসাই দর্শন অ্যাপার্টমেন্ট ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। আহতের সংখ্যা ১২। মঙ্গলবারের এই বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনার জন্য শিবসেনার কর্মী সুনীল সীতাপ ও তাঁর স্ত্রী স্বাতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়িটির এক তলাটা তাঁরাই কিনেছিলেন। ৩৫ বছরের পুরোনো চারতলা  বাড়িটির প্রত্যেক তলায় তিনটি করে ফ্ল্যাট ছিল। তারই নীচে এক তলায় একটি নার্সিং হোম ছিল। সেই নার্সিং হোম ভেঙে সুনীলরা একটা গেস্টহাউস তৈরি করছিলেন। এই কাজে পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছিল। তাতেই বাড়ির স্তম্ভগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে এই বিপত্তি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সচিন পালিত বলেন, সুনীলদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুনীলের কথা অনুযায়ী বাড়ির নীচেটা কিনে তাতে কাঠামোগত পরিবর্তন করেছিলেন তাঁরা।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঘটনার সময় স্বাতী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার পরই তিনি অদৃশ্য হয়ে যান। আর তাঁর ফোন বন্ধ করে দেন।

পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা আনন্দীবাই চাওল বলেন, ঘটনার পর প্রথম দিকে কিছুক্ষণ স্বাতী এখানে ছিলেন। তখন সংবাদমাধ্যমের লোক জন আর স্থানীয়দের ধাক্কা দিয়ে ভাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন স্বাতী। বলছিলেন, সামান্য ঘটনা। বড়ো কিছু না। তার পরই উধাও হয়ে যান। আনন্দীবাই বলেন, পরিকাঠামো বদলের কাজের জন্য ভাগ্যিস নার্সিং হোম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। না হলে আরও অনেকে মারা পড়তেন।

 

কংগ্রেসের সদস্য প্রবীণ চাঢা অভিযোগ করেন, সুনীল এক তলাটাকে হাসপাতাল থেকে গেস্টহাউসে পরিবর্তন করছিলেন। সেই কাজ করতে গিয়েই বাড়ির পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগে মিউনিসিপ্যালিটি সুহাংসু দ্বিবেদীকে অবৈধ কাজের জন্য বরখাস্ত করেছিল। দ্বিবেদী পশ্চিম ঘাটকোপারের বাড়িগুলির নীচের তলায় অবৈধ সংস্কার করার কাজে অনুমতি দিচ্ছিল। সুনীল আর দ্বিবেদী দু’ জনই এই জাতীয় কাজে যুক্ত।

শান্তিনিকেতন হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ প্রফুল্ল লোখানড়ে বলেন, ঘটনার সময় চাকুরেরা আর পড়ুয়ারা সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না। সকলে নিজের নিজের কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তাই হতাহতের বেশির ভাগই বয়স্ক আর মহিলা।

বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অধিকারিকরা জানিয়েছেন, ৭ জন এখনও পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্য ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ৩০ জন মানুষ ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়েছিলেন। তার মধ্যে ছিলেন ২ জন দমকল কর্মীও। এঁদের স্থানীয় শান্তিনিকেতন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে দমকলের ১৪টা ইঞ্জিন, অ্যাম্বুলেন্স, ২টো উদ্ধারকারী ভ্যান, চারটে জেএসবি, ছয়টি ডাম্পার, একটি পোক্লাইন মেশিন এবং প্রায় ৩০০ জন  শ্রমিক, ৫০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে।  উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। আরও কেউ ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়ে আছেন কিনা তা জানার জন্য খোঁজ চলছে। এখনও পর্যন্ত ৬৬ গাড়ি রাবিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্যত্র সরানো হয়েছে। আরও এখনও বাকি আছে।

উল্লেখ্য ২০০৭ সালে মুম্বইয়ের বরিভলিতে লক্ষ্মীছায়া বিল্ডিং ভেঙে পড়েছিল। তাতে নিহত হয়েছিলেন ২৯ জন। আহত হয়েছিলেন ১৮ জন। সেই ঘটনাটিও ঘটেছিল বাড়িটির পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করার ফলে। ও-ই বাড়িটির নীচে একটা গয়নার দোকান করা হয়েছিল। তারই পরিকাঠামো বদল করতে গিয়ে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর ভেঙে পড়ে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here