ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবারের মধ্যরাতে তখন রাজত্ব করছিল খুশির আবহ। মুম্বইয়ের লোয়ার প্যারেলের সেনাপতি বাপট মার্গের কমলা মিল এলাকার ওয়ান অ্যাবাভ রেস্তোরাঁর খোলা ছাদে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপনে মেতেছিলেন বছর আঠাশের খুশবু মেহতা। তখনও জানা ছিল না যে, জীবনের এই হাসি-খেলার পাট সাঙ্গ হতে চলেছে মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে।

khushboo mehta
খুশবু মেহতা

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান খুশবু। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু পরিবার-পরিজনই নন, শোকস্তব্ধ গোটা দেশও। কেন না, আসন্ন মৃত্যুর আগে বন্ধুদের সঙ্গে খুশবুর আনন্দ আবিল থাকার একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে দেশে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিনের কেক কাটছেন তিনি। হাসছেন, আনন্দে সবাই মশগুল হয়ে রয়েছেন পরস্পরে। সেই ভিডিও ফুটেজের লেখা বলছে- হ্যাপিয়েস্ট বার্থডে খুশি!

 

পুলিশ জানিয়েছে, খুশবুর দেহ সনাক্ত করেছেন তাঁর স্বামী। ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তো বটেই, এমনকী পুলিশ-প্রশাসনকেও দোষের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন খুশবুর ঠাকুর্দা। “আমার নাতনি মরে গেল। ওই তারিখেই জন্মেছিল ও! কিন্তু কেউ কিছু করতে পারল না। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তো নয়ই, আগুন নেভানোর কোনো বন্দোবস্তই তাঁদের ছিল না। এবং উদ্যোগও নেননি তাঁরা। পুলিশ বা প্রশাসনও এ ব্যাপারে চুপ করে রইল”, জানিয়েছেন তিনি।

খুশবু ছাড়াও মুম্বইয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অন্তত ১২ জন।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রায় রাত সাড়ে বারোটার কাছাকাছি ওই এলাকার ওয়ান অ্যাবাভ নামের একটি রুফটপ রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। দেখতে দেখতে মিনিট খানেকের মধ্যেই সেই আগুন পুরো রেস্তোরাঁ গ্রাস করে নেয়। খুশবু তো বটেই, সঙ্গে জন্মদিনে আগত অনেক অতিথিও আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশই মহিলা। তাঁদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৩০ বছরের বেশি নয়। আর ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যাঁরা, তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালে।

দমকল জানিয়েছে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই খবর পেয়ে কর্মীরা পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন প্রায় ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় সেই আগুন আয়ত্তে আনে। অনুমান, কোনো ভাবে শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লেগেছিল ওই রেস্তোরাঁয়। তার পর তা মুহূর্তের মধ্যে সর্বগ্রাসী রূপ নেয়।

fire

ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক মহল। শিব সেনা প্রধান আদিত্য ঠাকরে টুইট করে জানিয়েছেন, “এই সব রেস্তোরাঁয় যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে না। তাই ঘটনাটির তদন্ত দাবি করছি। দোষী প্রমাণিত হলে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে”। অন্য দিকে শিব সেনা আইনজীবী সুনীল শিন্দেও ঘটনায় অভিযোগের আঙুল তুলেছেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দিকেই। আহতদের খোঁজ নিতে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন হাসপাতালে। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, “কী ভাবে যে এই রেস্তোরাঁগুলো ব্যবসার লাইসেন্স পায়, কে জানে! আমি জোর দিয়ে বলতে পারি দোষটা ওঁদের তরফেই”!

তবে ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছাড়াও শিব সেনার উত্তেজিত হয়ে পড়ার আরও একটা কারণ দেখতে পাচ্ছে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক মহল। কমলা মিল এলাকায় প্রচুর বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ রয়েছে, যার অধিকাংশই নাইট ক্লাব। শিব সেনা দল যা সনাতন সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেই মনে করে। ফলে, ঘটনাটির জের অনেক দূর যেতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলে অনুমান।

যদিও শুধুই নাইট ক্লাব নয়, ওই এলাকায় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দফতরও রয়েছে। আগুনে অল্প-বিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ আছে সম্প্রচার। এস জে কুমার নামের এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, তাঁরা ঘটনাটির তদন্ত করছেন। যতক্ষণ না তা শেষ হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ বা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট করে কছু বলা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here