মুসলিম সাংবাদিকের পরিবারকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলাল বজরঙ্গ দল

0

পটনা : বিহারের এক মুসলিম সাংবাদিক আর তাঁর পরিবারকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য জোর করা হল। ভয় দেখানো হল, অন্যথায় তাঁদের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রাণের ভয়ে তাঁরা ‘জয় শ্রীরাম’বললেন। ওই সাংবাদিক আর তাঁর পরিবার মনে করছেন, বিহারের বজরঙ্গ দলের সদস্যরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

এনডিটিভির সাংবাদিক মুন্নে ভারতী। বিহারের বৈশালি জেলার কারনেজি গ্রাম থেকে সমস্তিপুরের রহমেদ গ্রামে যাচ্ছিলেন গাড়ি করে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা মা, স্ত্রী আর দুই সন্তান। মুন্নে ভারতী জানান, তাঁরা তখন মুজফ্‌ফরপুরে, জাতীয় সড়ক ২৮–এ। দেখেন টোল বুথের কাছে বিশাল যানজট। তিনি লক্ষ করেন, জাতীয় সড়কের মাঝখানে একটি লড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা আছে। তিনি এক জন পথচারীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কী হয়েছে? তার উত্তরে সেই পথচারী বলেছিলেন, সেখান থেকে গড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে ফেরত যেতে। তা না হলে বজরঙ্গ দলের লোকজন তাঁদের গাড়ি পুড়িয়ে দেবে।

 

পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি গাড়ি ঘোরাতে শুরু করেন। কিন্তু লক্ষ করেন গেরুয়া পোশাক পরা চার পাঁচ জন তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের হাতে লাঠি। তাদের এক জন গাড়ির ভেতরে উঁকি দেয়। তাঁর বাবা আর স্ত্রীকে লক্ষ করে। তাতে মুন্নেরা যে মুসলিম তা বুঝতে পারে। তার পরই ‘জয় শ্রীরাম’ বলে চিৎকার করতে শুরু করে। আর মাটিতে লাঠি ঠুকতে থাকে। এর পরই শুরু হয় আসল খেলা। তারা বলতে থাকে “হয় ‘জয় শ্রীরাম’ বল, তা না হলে আমরা তোমাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেব”।

গোটা ঘটনায় ভয় পেয়ে যান তাঁরা। ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে শুরু করেন। তার পরই ওই দলটা তাঁদের ছেড়ে দেয়।

মুন্নে ভারতী তার পর ঘটনাটা জানিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে টুইট করেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, দেশ জুড়ে হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গরু সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে এ বার ভাবা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকার যে এই বিষয়ে খুব সামান্য কিছুই ব্যবস্থা নিয়েছে, সে কথাও তিনি তুলে ধরেন।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন