পুলওয়ামা মানে শুধুই রক্ত, হিংসা নয়, পুলওয়ামা মানে সম্প্রীতি এবং ভালোবাসাও!

0
Pulwama temple
পুলওয়ামার সেই মন্দির। ছবি সৌজন্যে নিউজ১৮ডটকম।

পুলওয়ামা: ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার যে জায়গায় সিআরপিএফের কনভয় লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল, তার থেকে ১৫ কিমি দূরে অবস্থিত আঁচন নামক একটি গ্রাম। মুসলিম অধ্যুষিত এই গ্রামে একমাত্র হিন্দু হিসেবে রয়েছেন কাশ্মীরি পণ্ডিত ভূষণ লাল এবং তাঁর পরিবার। কিন্তু হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি তুলে ধরছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা।

৮০ বছরের পুরোনো ভগ্নপ্রায় একটি মন্দিরকে আবার নব রূপে সাজিয়ে তুলতে ভূষণের পরিবারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন মুসলিমরা।

বহু বছর ধরে ভগ্ন অবস্থায় ছিল এই মন্দির। কয়েক মাস হল মন্দিরটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজে নেমে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। তবে পুলওয়ামা হামলার পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীরিদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পরে মন্দিরের কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। ফের শিবরাত্রির দিন থেকে তা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন মৌমাছি-বাদুড়ের মিলেমিশে বসবাস! দেখে শেখার মতো

শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে এই মন্দিরে যত দর্শনার্থী এসেছেন, তাঁদের সবাইকে কাশ্মীরি ‘কাওহা’ চা খাইয়েছেন মুসলিমরা। মহম্মদ ইউনুস নামক এক গ্রামবাসী বলেন, “আমাদের স্বপ্ন আবার তিরিশ বছর আগের ছবিটা গ্রামে ফিরে আসুক যখন মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গেই বেজে উঠত মসজিদের আজান।”

১৯৯০ সালে উপত্যকা থেকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিতাড়িত করা হলেও, এখানেই থেকে গিয়েছিলেন ভূষণ লাল। মন্দিরের ভগ্ন দশা দেখে মসজিদ কমিটির কাছে আবেদন করেন তিনি। ভূষণের কথায়, “সবাই এই মন্দিরকে খুব শ্রদ্ধা করে, তাই মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও আমাদের প্রতিবেশীরা মন্দিরের কাজে হাত লাগিয়েছে।”

নিজের নিকটআত্মীয়ের থেকেও মুসলিম প্রতিবেশীরা তাঁদের অনেক বেশি আপন, কোনো রাখঢাক না রেখেই বলে দেন ভূষণের ভাই সঞ্জীব কুমার।

পুলওয়ামা মানে শুধুই ধ্বংস, রক্ত নয়। পুলওয়ামা মানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শনও।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন