narendra modi

ওয়েবডেস্ক: দেশের মানুষের প্রায় প্রতি পদক্ষেপ এখন নিয়ন্ত্রিত হয় তাঁর মর্জিতে! বা বলা ভালো, তাঁর প্রবর্তিত নিয়ম-কানুনের সূত্রে! আর এহেন নরেন্দ্র মোদীর এসএমএসে না কি পাত্তা দেন না ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদরাই?

শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি তেমনটাই অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নয়াদিল্লিতে এক সংসদীয় বৈঠকে জানিয়েছেন তিনি, ভারতীয় জনতা পার্টির অনেক সাংসদই তাঁর এসএমএস-এর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন মোদী, তিনি হামেশাই এসএমএস-এর মাধ্যমে সুপ্রভাত লিখে প্রভাতী শুভেচ্ছা পাঠান দলীয় সাংসদদের। কিন্তু, হাতে গোনা দুই-একজন ছাড়া কেউই তাঁর এসএমএস-এর প্রত্যুত্তর দেন না। এ থেকেই স্পষ্ট- তাঁর বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না সাংসদরা!

অনেকে বলতেই পারেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ভাবে জড়িয়ে গিয়েছেন নিজের প্রকল্পের জালে। দেশকে এত মাত্রায় ডিজিটাল করে তুলেছেন তিনি যে এসএমএস চলে গিয়েছে বাতিলের খাতে। ফলে, সাংসদদের মতো যাঁরা উচ্চপদস্থ, যাঁদের হাতে রয়েছে নিত্য নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা, তাঁরা আর মাথা ঘামাচ্ছেন না এসএমএস-এর মতো পুরনো হয়ে যাওয়া প্রযুক্তি নিয়ে। যার পরিণামে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বার্তাও আর নজরে আসছে না তাঁদের!

যাই হোক, সহজে দমে যাওয়ার পাত্র তো আর নরেন্দ্র মোদী নন! তাই নয়া ফরমান জারি করেছেন তিনি- এবার থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রত্যেক সাংসদকে ‘নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ’-এ চোখ রাখতেই হবে। এসএমএস হতেই পারেও পুরনো প্রযুক্তি, কিন্তু অ্যাপ তো আর তা নয়! ফলে, তাঁর অ্যাপে চোখ রাখলেই তিনি কী বলছেন, তিনি কী ভাবছেন- সব হামেহাল পৌঁছে যাবে দলীয় সাংসদদের কাছে। সে ক্ষেত্রে, আর তাঁর বার্তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না কারও পক্ষে!

একেই কি বলে ডিজিটাল মস্তিষ্কের নমুনা?

সে বিচারের ভার আপনাদের! তবে এই এসএমএস থেকে অ্যাপে আসার পন্থা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আরও এক দিক থেকে সচেতন করেছেন দলীয় সাংসদদের। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত ভাবে সংসদীয় বৈঠকে যোগদানের প্রয়োজন বোধ করেন না, তাঁদের পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না! এর পরেও কি আর সাংসদরা উপেক্ষা করার সাহস পাবেন দলনেতাকে?

মনে তো হয় না!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here