ওয়েবডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক সমীকরণে দু’জন দুই মেরুতে। কিন্তু কংগ্রেসকে ‘বনবাস’-এ পাঠানোর স্বার্থে যদি মমতা জেতেন, তা হলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। এমনই কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মঙ্গলবার তেলঙ্গানার নিজামাবাদে ভোটপ্রচারে এসে এই কথা বলেন মোদী। তাঁর দাবি, শুধু মমতাই নয়, উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ, মায়াবতী বা পশ্চিমবঙ্গে বামেরাও ভোট পেলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কংগ্রেসকে একটি ভোটও নয়, তাদের রাজনৈতিক ভাবে বনবাসে পাঠাতে হবে।

মোদী বলেন, “উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদব কিংবা মায়াবতীকে নিয়ে কারও কোনো সমস্যা নেই, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বাম দলগুলিকে নিয়েও কারও সমস্যা নেই, কিন্তু কংগ্রেসই একমাত্র দল যাকে গোটা দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে বনবাসে পাঠিয়ে দিতে হবে।” তেলঙ্গানার দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওয়ের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান মোদী। তবে তাঁর আক্রমণের তির অনেক বেশি ধারালো ছিল কংগ্রেসের প্রতি।

আরও পড়ুন রানিগঞ্জের কাছে লাইনে ফাটল, আটকে রাজধানী-সহ একাধিক ট্রেন

কিন্তু হঠাৎ, মমতা-অখিলেশ-মায়াবতীদের মতো তীব্র বিরোধীদের প্রতি মোদীর সুর নরম কেন? গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, বিজেপি ধরে নিচ্ছে ২০১৯-এ বিরোধীরা এক জোট হবে। সে ক্ষেত্রে যদি কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত আঞ্চলিক দলও হাত মেলায় তাতে বিপদ বাড়বে বিজেপির। আর কংগ্রেসকে ছাড়া আঞ্চলিক দলগুলি একত্রিত হলেও বড় বেশি ক্ষতি হবে না বিজেপি শিবিরের, বরং তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরি হলে ভোট ভাগাভাগিতে লাভই হবে।

তাই, মোদীর লক্ষ্য যেন তেন প্রকারেণ বিরোধী মহাজোট থেকে কংগ্রেসকে দূরে রাখতে। যাতে বিজেপি-বিরোধী ভোট দু’টি শিবিরে ভাগ হয়ে যায়। তবে মোদীর এই চেষ্টা সফল হবে কি না সেটা তো সামনের বছর ভোটের সময়ই জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here