নয়াদিল্লি: ভারতে এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে সংক্রমণ বেশ বেড়েছে। একটু একটু করে সংক্রমণ বাড়ার লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গেও। তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউয়ের থেকে তফাৎটা হল যে এ বার সংক্রমণ বাড়লেও গত দুটি ঢেউয়ের তুলনায় তা অতটা গতিশীল নয়। এর জন্য মানুষের শরীরে তৈরি হওয়া রোগী প্রতিরোধ মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে শুক্রবার দৈনিক সংক্রমণ ফের একবার হাজার পার করেছে (১,০৪২)। বুধবারের (১,০০৯) পর বৃহস্পতিবার (৯৬৫) রাজধানীতে সংক্রমণ কমেছিল। কিন্তু শুক্রবার তা আবার বেড়েছে। কিন্তু সংক্রমণের হার পর পর দু’দিন ধরেই কমেছে। বুধবার সংক্রমণের হার ছিল ৫.৭০ শতাংশ, বৃহস্পতিবার তা কমে হয় ৪.৭২ শতাংশ। শুক্রবার তা আরও কমে হয়েছে ৪.৬৪ শতাংশ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংক্রমণের দাপট কতটা রয়েছে সেটা বুঝতে গেলে এই হারের দিকেই তাকাতে হয়। প্রতি একশো জনের মধ্যে সম্ভাব্য কতজন কোভিড পজিটিভ সেটাই বোঝায় এই সংক্রমণের হার ।

হরিয়ানায় শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৫ জন। বৃহস্পতিবার, বুধবার এবং মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৬৭, ৩১০ এবং ২৪৯ জন। অর্থাৎ সংক্রমণ বাড়লেও তা কোনো ভাবেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না। এমনকি এক সপ্তাহে আগেই সংক্রমণের হার এক লাফে ১ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে উঠে এলেও বর্তমানে সপ্তাহখানেক ধরেই সেই হার ৩ থেকে ৪ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৮ জন, যা বৃহস্পতিবারের (২০৫) থেকে কিছুটা কম। গত তিন চার দিন ধরে এ রাজ্যে সংক্রমণ রয়েছে দেড়শো থেকে দুশোর মধ্যে। সংক্রমণের হার রয়েছে ০.১৫ শতাংশের আশেপাশে।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ঢেউয়ের সময় দেখা যাচ্ছিল যে সংক্রমণ কার্যত বাড়ছিল লাফিয়ে লাফিয়ে। দিল্লির ক্ষেত্রেই দেখা যাক, প্রথম দিন নতুন সংক্রমণ হাজার হলে তার পরের দিনই তা দু’হাজার হয়ে যাচ্ছিল। এই ভাবে মাত্র দিন দশেকের মধ্যে নতুন সংক্রমণ হাজার থেকে দশ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে কুড়ি হাজারে পৌঁছে যাচ্ছিল।

কিন্তু সেই ছবিটা এ বার দেখা যাচ্ছে না। সংক্রমণ বাড়লেও তা অত্যন্ত স্লথগতিতে বাড়ছে। মানুষের শরীরে তৈরি হয়ে যাওয়া রোগী প্রতিরোধ ক্ষমতাই এর মূল কারণ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি হরিয়ানার স্বাস্থ্য সচিব রাজীব অরোরাও ঠিক এই কারণটাকেই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “অসংখ্য সেরো সার্ভেতে দেখা গিয়েছে যে দেশের জনসংখ্যার একটা বিশাল বড়ো অংশই কোভিডে আক্রান্ত হয়ে গিয়েছেন। সে কারণে তাঁদের মধ্যে এমনিতেই সাধারণ ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, অসংখ্য মানুষ টিকাও নিয়ে নিয়েছেন। এই দুই কারণেই কোভিড ছড়ানোর গতি খুবই কম।”

উল্লেখ্য, মুম্বই তথা গোটা মহারাষ্ট্রেও শুক্রবার করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কমে গিয়েছে। মুম্বইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ জন, মহারাষ্ট্রে ১২১ জন। দুটি সংখ্যাই গত চার দিনের মধ্যে সব থেকে কম। কর্নাটকেও বৃহস্পতিবার নতুন সংক্রমণ ১০০ এবং সংক্রমণের হার ১ শতাংশ পেরোলেও শুক্রবার নতুন সংক্রমণ ৯০ এবং সংক্রমণের হার ০.৮৩ শতাংশে নেমে আসে।

তবে সংক্রমণ বাড়ার গতি কম মানেই সংক্রমণ আর বাড়বে না, সেটা ধরে নিলে চলবে না। কারণ এই মুহূর্তে ভারতে ওমিক্রনের ৮-৯টা উপপ্রজাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে সংক্রমণ বাড়বে তেমনটা ভেবেই তৈরি থাকতে হবে। যেমন তামিলনাড়ু (৫৯) এবং পশ্চিমবঙ্গে (৪০) একটু একটু করে বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও বুঝতে হবে যে সংক্রমণ বাড়লেও তা কোনো উদ্বেগের পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না। কারণ বেশিরভাগের জন্যই কোভিড আর কোনো গুরুতর অসুস্থতা নয়। রোগী বাড়লেও হাসপাতালে শয্যা ভরতি হচ্ছে না। মৃত্যুহার পুরোপুরি তলানিতে এসে ঠেকেছে।

কোভিডের থেকে আরও হাজার হাজার গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, যা কোভিডের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছে। এ বার সেগুলিকে গুরুত্ব বেশি করে দিতে হবে।

আরও পড়তে পারেন:

কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পথে প্রশান্ত কিশোর, তবে তাঁর কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দলের প্রবীণ নেতা

লালুপ্রসাদ যাদবের উঠোনে নীতীশ কুমার, ফের দুই মেরুর মিলনের অপেক্ষার বিহারের রাজনীতি!

জহাঙ্গিরপুরীতে পুলিশি বাধা, ফিরতে হল তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে

রাজধানী নয়, বিদেশি অতিথিদের গন্তব্য এখন গুজরাত! এ বার কি নয়াদিল্লির জায়গা নিচ্ছে অমদাবাদ?

দিল্লি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন