নকল ২,০০০ টাকার নোটের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে গুজরাত: সরকারি রিপোর্ট

0
প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: কালো টাকা, জাল টাকা…ইত্যাদিতে ইতি টানতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ২০১৬ সালে ঘোষণা করেন নোটবন্দির। একই সঙ্গে বাজারে আসে ২,০০০ টাকার নতুন নোট। কিন্তু কপি করতে সুবিধা হওয়ায় নকল ২,০০০-এ ভরে গিয়েছে বাজার। আর সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে গুজরাত। এমনটাই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে সরকারি রিপোর্টে।

‘ক্রাইম ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক এনসিআরবির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৪৬.০৬ কোটি টাকার নকল নোট (এফআইসিএন) বাজেয়াপ্ত করেছে। মোট বাজেয়াপ্ত নকল টাকার মধ্যে ৫৬.৩১ শতাংশই জাল ২,০০০ টাকার নোট।

দু’টি এনসিআরবি রিপোর্টের বিশ্লেষণে আরও প্রমাণিত হয়েছে বাজেয়াপ্ত জাল নোটের মূল্যে ২,০০০ টাকার নোটের শুধুমাত্র সর্বাধিক অংশীদারিত্বই নয়, সামগ্রিক মূল্যে তাদের অংশীদারিত্ব এই সময়ের মধ্যে যথেষ্ট বেড়েছে।

২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ২৮.১০ কোটি টাকা মূল্যের জাল টাকা বাজেয়াপ্ত করে। এর মধ্যে ৫৩.৩০ শতাংশই জাল ২,০০০ টাকার নোট । এক বছর পরে, মোট বাজেয়াপ্ত জাল নোটে ২,০০০ টাকার নকল নোটের অংশীদারিত্বের পরিমাণ বেড়েছে ৬১.০১ শতাংশ। স্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয়েছে, নতুন এই নোটগুলির নকলীকরণ আরও সহজ হয়ে গিয়েছে।

ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই জানা গিয়েছে, দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি রাজ্য নকল ২,০০০ টাকার নোটের কারবার জাঁকিয়ে বসেছে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে ২,০০০ টাকার নোট প্রবর্তনের পর থেকে গুজরাত নকল নোটের কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০১৮-এর শেষ নাগাদ সংশ্লিষ্ট সরকার সংস্থাগুলি গুজরাত থেকে ৩৪,৬৮০টি ২,০০০ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তাদের সম্মিলিত মূল্য ছিল ৬.৯৩ কোটি টাকা।

জাতীয় মাপকাঠিতে গুজরাত থেকে পাওয়া গিয়েছে গোটা দেশ থেকে পাওয়া মোট নকল ২,০০০ টাকার ২৬.২৮ শতাংশ।

এর পরের স্থানগুলিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশ। এই রাজ্যগুলিতে যথাক্রমে নকল ২,০০০ টাকার নোট উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি, ২.৮ কোটি এবং ২.৬ কোটি মূল্যের।

অন্য দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরবিআইয়ের ২০১৮-১৯ বার্ষিক রিপোর্টেও বাজারে নকল ২,০০০ টাকার নোটের সংখ্যাধিক্যের নির্দেশ করে। প্রতিবেদনের ১৪৭ পাতায় বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় মোট ১৭,৯২৯টি নকল ২,০০০ টাকার নোট ধরা পড়েছিল।

পরের বছর, এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১,৮৪৭টি। অর্থাৎ, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে জাল ২,০০০ টাকার নোট ২১.০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে আশ্চর্যজনক ভাবে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার পরপরই বাজারে নকল ২,০০০ টাকার নোট নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে আরবিআইয়ের রিপোর্টে। বলা বলা হয়েছে, ৯ নভেম্বর, ২০১৮ থেকে ৩১ মার্চ, ২০১৭-এর মধ্যে বাজার থেকে ৬৩৮টি নকল জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন