রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আপাতত বেশ খানিকটা এগিয়ে এনডিএ

0
811
শৈবাল বিশ্বাস

সময় যত এগোবে ততই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন অঙ্ক কষা শুরু হবে। আজ যিনি বন্ধু কাল অচিরেই শত্রু হয়ে যেতে পারেন। বিরোধী শিবিরের অন্তত দুজন যে কোনও মুহূর্তে এনডিএ-তে চলে যেতে পারেন আবার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এনডিএ-র এক শরিক স্বচ্ছন্দে বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই মুহূ্র্তে পরিস্থিতিটা কী তা একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার মোট ভোটমূল্য ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৮২। নিশ্চিত জয়ের জন্য প্রয়োজন ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬৮৩। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ স্পষ্ট দাবি করেছেন, তাঁরা ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৭২৫ ভোটে জিতবেন। কিন্তু সহজ অঙ্কে দেখা যাচ্ছে এখনও পর্যন্ত এনডিএ একেবারে সুনিশ্চিত জয়ের ভোটের নিরিখে মাত্র ১১ হাজার ৭৫৯ ভোটমূল্যে পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে বিরোধীরা সুনিশ্চিত ভোটমূল্যের নিরিখে  পাচ্ছেন ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৭৩৯ টি ভোট। এর অর্থ তারা এক লক্ষেরও বেশি ভোটমূল্যে আপাতত পিছিয়ে। শতাংশ হিসাবে এনডিএ-র হাতে আছে ৪৮.৬৪ শতাংশ ভোটমূল্য আর ইউপিএ-র কাছে আছে ৩৬.৪৭ শতাংশ ভোটমূল্য। কেউই ৫০ শতাংশ ভোট না পেলেও এনডিএ কিন্তু অনেকটাই এগিয়ে।

তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে, তেলেঙ্গনার টিআরএস, হরিয়ানার আইএনএলডি,ওড়িশার বিজেডি,অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআরসিপি ও দিল্লির আপ এখনও পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। এর মধ্যে এআইডিএমকে, টিআরএস,আইএনএলডি,ওয়াইএসআর কংগ্রেস এনডিএকে ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে না বিজেডি এবং আম আদমি পার্টি কী করবে। তবে সহজ রাজনৈতিক অঙ্কে তারা বিরোধীদের দিকে থাকবে বলেই অনুমান। এই ছয় দলের ভোটমূল্য ১৩.০৬ শতাংশ। এই দলগুলির সাংসদ বিধায়করা ইউপিএ-র দিকে গেলে তাদের ভোটমূল্য হবে ৪৮.৫৩ শতাংশ। তবে সে ক্ষেত্রেও তারা এনডিএ-র (৪৮.৬৪ শতাংশ) থেকে পিছিয়ে থাকবে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায়  উত্তর পূর্বাঞ্চলের দলগুলি একযোগে কোনও একদিকে ভোট দেবে তাহলেও তাদের মোট ভোটমূল্য ৩ শতাংশের বেশি হবে না।

বোঝা যাচ্ছে এআইডিএমকে-র সমর্থন পেলেই এনডিএ অনেকটা এগিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের ভয় রয়েছে শিবসেনা ও মহারাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টিকে নিয়ে। তারা জানিয়েছে, শরদ পাওয়ার যদি বিরোধী দলের প্রার্থী হন তাহলে তারা তাঁর দিকেই ঝুঁকবে। সে ক্ষেত্রে এনডিএ-তে ভাঙনের সম্ভাবনা স্পষ্ট।

কিন্তু কী করবেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা? তাঁরা কি আদৌ সম্মিলিত বিরোধী প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবেন নাকি একবার সুযোগ পেয়েছেন বলে একেবারে আরএসএস মতাদর্শে দীক্ষিত কাউকে প্রার্থী করবেন? আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোদি-ফেস্ট চলবে. তারপরই মুখ খুলবেন বিজেপি নেতৃত্ব।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here