rahul gandhi takes jibe at modi

ওয়েবডেস্ক:  লোকসভার বাজেট অধিবেশনে বেশ কিছু জিনিস দেখা গেল, যা এক্কেবারে নতুন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের জবাবি বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে কংগ্রেসকে বেনজির আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টেনে আনলেন নেহরুকেও। অন্যদিকে বিরোধীদের যে মেজাজ দেখা গেল, তা গত চার বছরে দেখা যায়নি। অন্যদিকে নানা ভাবে দরকষাকষির খেলা শুরু করে দিলেন এনডিএ-র কিছু জোটসঙ্গী।

সম্প্রতি বিজেপি-র সংসদীয় কমিটির দুটি বৈঠক হয়েছে। দুটি বৈঠকেই সাংসদদের বলা হয়েছে ২০১৯ সালের নির্বাচনকে মাথায় রেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে। আর এজন্য সোশাল মিডিয়াকে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কারণ, বিজেপির মতে, মোট ভোটদাতার দুই তৃতীয়াংশই সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন।

এর মধ্যেই আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি এ বছরের পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে হিন্দিতে পরামর্শ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তাকে নিয়ে জনগণের মধ্যে পৌঁছতে বলা হয়েছে বিজেপি সাংসদদের।

যে সব বিজেপি সাংসদ ‘সত্যনারায়ণ পূজা’ করছেন, তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেবল ওই পুজোই যথেষ্ট নয়। পূণ্য অর্জনের জন্য অন্যান্য পুজোও করতে হবে।

বিজেপির কয়েকটি জোটসঙ্গী অন্য সুরে কথা বলছে। ইতিমধ্যেই শিবসেনা জানিয়ে দিয়েছে, তাঁরা একা ভোটে লড়বে। দর কষাকষির খেলায় নেমে পড়েছে টিডিপি। তাঁরা বিরোধী জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। জিতেন রাম মাঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা, উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টির মতো ছোটো জোটসঙ্গীরাও ধৈর্য হারাচ্ছে। রামবিলাস পাসওয়ান আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন বটে, তবে সবাই জানেন এই বিহারি নেতা ভোট কাছে আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

বসে নেই কংগ্রেসও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে হাই কম্যান্ড থেকে ফোন যেতে শুরু করেছে। বিহারের এমনই এক সম্ভাব্য প্রার্থীর কাছে দুটি পছন্দের আসনের নাম জানতে চাওয়া হয়েছে,সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের কথা মাথা রেখে।

মহারাষ্ট্রের প্রবল প্রতাপশালী নেতা শরদ পাওয়ার গত মাসে মুম্বইতে বিরোধীদের নিয়ে একটি মিছিল করেছেন। ভীমা-কোড়েগাঁও-এর হিংসাত্মক ঘটনার পর কংগ্রেস-এনসিপি জোট মারাঠা-মুসলিম-মাহারদের জোট গঠনে উদ্যোগী।

এতদিন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলকে কেউ তেমন পাত্তা না দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আপের সদ্য নির্বাচিত রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং-কে দেখা গেছে ইউপিএ নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনে যেতে।

পশ্চিমবঙ্গের কথায় যাদি আসা যায়, তাহলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে আগামী লোকসভা ভোটে বিরোধী পক্ষেই থাকবে তৃণমূল ও বামেরা। এই দুই পক্ষ আবার রাজ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী। এ রাজ্যে হয়তো কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হবে না কারও। কারণ তৃণমূলের কংগ্রেসকে প্রয়োজন নেই আর কেন্দ্রে তৃণমূলকে কাজে লাগবে বলে অধীরকে অন্তত প্রকাশ্যে বামেদের হাত ধরতে দেবেন না কংগ্রেসের হাই কমান্ড। সিপিএম যতই একলা চলার নীতি নিক, ২০১৯ এর নির্বাচনে তাঁরা দেশে যত আসন পাবে, সবই যে বিজেপি বিরোধী জোটকে সাহায্য করতেই কাজে লাগবে, তা নিশ্চিন্তেই বলা যায়।

এ সব কিছুর মধ্যেই চুপচাপ রয়েছেন মায়াবতী ও তাঁর দল বহুজন সমাজ পার্টি। আসন্ন কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে জনতা দল(এস)-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিএসপি।

বিএসপি-র মতোই চুচাপ রয়েছে নবীন পটনায়কের বিজেডি-ও। বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে বিরোধী দলগুলির যে প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে গিয়েছিল, তাতে বিজেডি-র কেউ ছিলেন না।

আগামী বছরের ভোটের জন্য ঘর গোছানোর পালা চলছে তুমুল গতিতে। কোনদিকে কে ডাক পান, তা দেখতে আর একটু সময় লাগবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here