শিশুটির ঠাকুমা।

ওয়েবডেস্ক: একটি সরকারি হাসপাতালের কোন বিভাগে হবে চিকিৎসা, এই টানাপড়েনে পড়ে মৃত্যু হল চার দিনের এক শিশুর। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে। ঘটনায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর নড়েচড়ে বসেছে যোগী সরকার। ওই হাসপাতালের একটি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অন্য বিভাগের অফিসার ইন-চার্জের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।

উল্লখ্য, দিন চারেক আগে উর্বশী নামক ওই শিশুকন্যাটির জন্ম হয়েছিল বরেলির এক বেসরকারি হাসপাতালে। বুধবার সকালে শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন উদ্বিগ্ন বাবা, মা শিশুটিকে নিয়ে ছুটে আসেন ওই সরকারি হাসপাতালে।

প্রথমেই হাসপাতালের পুরুষ বিভাগে এসে পৌঁছয় শিশুটির পরিবার। কিন্তু অন্য কাজ রয়েছে, এই অজুহাত দিয়ে তাকে দেখতে অস্বীকার করেন কমলেন্দ্র স্বরূপ গুপ্তা নামক এক চিকিৎসক। এর পর মহিলা বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পর্যাপ্ত বেড না থাকার কথা বলেন, সেখানে দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার অলোকা শর্মা। শিশুটিকে তিনি আবার পুরুষ বিভাগেই নিয়ে যেতে বলেন তার বাবা, মাকে।

উর্বশীর পরিবারের অভিযোগ, এই ভাবেই টানা তিন ঘণ্টা হাসপাতালের দুটি বিভাগে দৌড়ঝাঁপ করানো হয়েছে তাদের। শিশুটির ঠাকুমা কুসমা দেবীর অভিযোগ, ‘‘ কোনো বিভাগ ভরতি না নেওয়ায় আমার ছেলে, বউমা বাচ্চাটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার কথা ভেবেছিল। সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছিল নীচে, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। কিন্তু হাসপাতালের সিঁড়িতেই মৃত্যু হয় ওর।’’

আরও পড়ুন উলটপুরান! বিজেপি থেকে তৃণমূলে এলেন ১৩০০ নেতা-কর্মী

শিশুটিকে ভর্তি করানো নিয়ে হাসপাতালের দুই বিভাগের মধ্যে টালবাহানার অভিযোগটি যে মিথ্যা নয়, বিভাগের চিকিৎসক ও অফিসার ইন-চার্জের লেখা মেডিক্যাল স্লিপেই তার প্রমাণ রয়েছে। এমন কি শিশুটির মৃত্যুর পর একে অন্যকে দোষারোপ করে বচসায় জড়িয়ে পড়েন দুই চিকিৎসক কমলেন্দ্র ও অলোকা। তার ভিডিওও রয়েছে ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে।

চিকিৎসার গাফিলতি তো রয়েছেই, কিন্তু এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল দশাটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। হাসপাতালের মহিলা বিভাগে চারটি বেডে রয়েছে আটটি শিশু। অলোকার কথায়, ‘‘বেডের এই অবস্থা দেখেই আমি শিশুটিকে পুরুষ বিভাগে নিয়ে যেতে বলেছিলাম। বেড খালি থাকলে তো আমরা শিশুটিকে ভরতি কারতেই পারতাম।’’

সব মিলিয়ে চিকিৎসার গাফিলতি এবং সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে প্রাণ চলে গেল ফুটফুটে একটি শিশুকন্যার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here