modi-and-labour-drink-water

নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানায় প্রথমবার জারি করা হয়েছিল ওই নির্দেশিকা। কিন্তু ২০০৭ সালে এনডিএ-র আমলে শ্রমিক ইউনিয়নগুলির আন্দোলনের জেরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় সেই নির্দেশ। কিন্তু ফের কেন্দ্রের ক্ষমতায় এসে বিজেপি গত ২০১৬-র ৪ আগস্ট একই নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে গত মাসে জারি করা আরও একটি বিজ্ঞপ্তিতে। যা নিয়ে এক জোট হয়ে প্রতিবাদে শামিল দেশের প্রায় সমস্ত শ্রমিক সংগঠন।

উৎপাদন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদি কর্মসংস্থানের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধেই এক জোট হয়ে গেল প্রায় সমস্ত জাতীয় স্তরের শ্রমিক সংগঠনগুলি। গত ৮ জানুয়ারি শ্রম মন্ত্রকের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তির বিরোধিতা করে একটি  যৌথ প্রতিবাদপত্র জমা করা হল সরকারের কাছে।

মূলত উৎপাদন ক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে সংস্থাগুলি কী ভাবে নিয়োগের সময়সীমা নির্ধারণ করবে, সে বিষয়েই ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মনে করে, শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সময়সীমা বেঁধে দিলে সংস্থা কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিয়মিত বেতন থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলিও সমান ভাবে দিতে বাধ্য হবে।

কিন্তু এই নিয়মের ফাঁক গলে যে শ্রমিক-স্বার্থ বিরোধী একাধিক অপকৌশল চলতে পারে, সে সব কথাই ওই প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হল। অধিকাংশ উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিতেই মরশুমের ভিত্তিতে কাজে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তাই সেখানে বছরের বাকি সময় ওই শ্রমিকের কর্মসংস্থান কী ভাবে জুটবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রকে চিন্তাভাবনা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া কোনো সংস্থা মরশুম শেষ হলেই শ্রমিককে কাজ থেকে ছাঁটাই করলে, তার রুটি-রুজির সংস্থান হবে কোথা থেকে?

আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, সিটু, হিন্দ মজদুর সভা এবং টিইউসিসিক মতো জাতীয় স্তরের শ্রমিক সংগঠনগুলি গত বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবাদপত্র তুলে দেয় শ্রমমন্ত্রকের আধিকারিকের হাতে। কংগ্রেসের এক শ্রমিক নেতা বলেন,’মোদী সরকার পুরনো একটা অপসারিত নীতকে নতুন করে তুলে ধরতে চাইছে। যা আদতে নতুন বোতলে পুরনো মদেরই নামান্তর মাত্র।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here