নয়াদিল্লি: ২০২৩-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা কাজ। আর বছর ছয়েকের মধ্যেই ভারতীয় রেলের স্নানঘর সেজে উঠবে নতুন, বিলাসবহুল সাজে। অবশ্যই সব ট্রেনে নয়। কথা হচ্ছে মুম্বই-আমদাবাদ বুলেট ট্রেনের। অত্যাধুনিক ইউরিনাল, পশ্চিমী ধাঁচের টয়লেট, আলাদা করে গরম জলের ব্যবস্থা সবই থাকছে ই ৫ শিনকানসেন সিরিজের বুলেট ট্রেনে। থাকছে শিশুদের স্তন্যপান করানোর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও।

মহিলা এবং পুরুষের আলাদা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকছে বুলেট ট্রেনে। প্রতিটি ওয়াশরুমে প্রসাধনের জন্য থাকছে আয়না। ১০ কোচ বিশিষ্ট ট্রেনের পাঁচটিতে থাকবে ইউরিনাল, বাকি পাঁচটিতে টয়লেট। পূর্ণবয়স্কদের টয়লেট ছোটোদের ব্যবহারোপযোগী নয়, তাই শিশুদের জন্য থাকছে আলাদা ব্যবস্থা, কম উচ্চতার বেসিন ইত্যাদি। সদ্যোজাতদের ডায়াপার বদলানোর জন্যেও থাকছে আলাদা ঘর। এ ছাড়া অসুস্থ যাত্রীদের জন্য আলাদা ঘর থাকবে জাপান থেকে আসা এই ট্রেনে। আর হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্যও টয়লেটের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

মোদী সরকারের বুলেট ট্রেন প্রকল্পের খরচ ৫০০০ কোটি টাকা। মোট খরচের ৮১% বিনিয়োগ করবে ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি’ ওরফে ‘জিকা’, যা ভারত সরকারকে ০.০১ % হারে ৫০ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। ভারতীয় রেলের তরফ থেকে বুলেট ট্রেন প্রকল্পে খরচ করা হচ্ছে ৯৮০০ কোটি টাকা। বাকি খরচ বহন করবে গুজরাত এবং মহারাষ্ট্র সরকার।

মুম্বই থেকে আমদাবাদ, এই ৫০৮ কিলোমিটার দূরত্ব যেতে বুলেট ট্রেনের সময় লাগবে ২ ঘণ্টা ৭ মিনিট। এর মধ্যে থানে থেকে ভিরার পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার পথ ট্রেনটি যাবে টানেলের তলা দিয়ে। এর মধ্যে ৭ কিলোমিটার আবার সমুদ্রের তলায়। প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে সবুজ বাঁচাতে বেছে নেওয়া হয়েছে টানেল।

ই ৫ সিরিজের বুলেট ট্রেনের যাত্রীধারণ ক্ষমতা ৭৫৩। এর মধ্যে ৫৫টি আসন বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের মাল রাখার জন্য থাকবে আলাদা জায়গা। মুম্বই থেকে আমদাবাদ যেতে মোট ১১টি স্টেশনে দাঁড়াবে ট্রেন। আর খরচ? বুলেট ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের খরচ প্রথম শ্রেণির শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কোচে যাতায়াতের দেড় গুণ (আনুমানিক ৩০০০ টাকা)।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন