ওয়েবডেস্ক: গরজ বড়ো বালাই। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা গেল না। শেষ পর্যন্ত রাত দুটোয় শপথ নিতে হল নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি প্রমোদ সবন্ত। গোয়ার প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পর্রীকরের ছেড়ে যাওয়া আসনে বসলেন তিনি। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে রাত দু’টোয় কোনো শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে কিনা সে বারে আলোকপাত করতে পারছেন না সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার সকাল থেকেই ইঙ্গিতটা ছিল। বিজেপি ঠিক করে ফেলেছিল গোয়া বিধানসভার স্পিকার প্রমোদ সবন্ত রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এবং সেইমতো সকাল ১১টায় শপথের সময় ঠিক হয়। প্রমোদের নামে শরিকদের কিছুতেই রাজি করানো যাচ্ছে না দেখে শপথের সময় পিছিয়ে সন্ধ্যা করা হয়।

আরও পড়ুন মনোহর পর্রীকর: ‘গির্জা এবং আরএসএসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অনিচ্ছুক রাজনীতিক’

কিন্তু শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েও যখন সমাধানসূত্র অধরা থেকে যায়, তখন সন্ধ্যার শপথ অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়। ও দিকে শরিকদের সঙ্গে টানা আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকেন দলের পর্যবেক্ষক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি।  বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ জানান, শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যে কোনো মুহূর্তে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন।

শেষ পর্যন্ত সেই মুহূর্ত এল রাত্রি দুটোয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন প্রমোদ সবন্ত। সেই সঙ্গে দু’ জন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও শপথ নিলেন। এঁরা হলেন গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির বিজয় সারদেশাই এবং মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সুদিন ধবলিকর। সঙ্গে আরও নয় মন্ত্রী শপথ নিলেন। এঁরা হলেন, মনোহর আজগাঁওকর, রোহন খাউন্তে, গোবিন্দ গৌড়ে, জয়েশ সালগাঁওকর, বিনোদ পালিয়েনকর, মৌভিন গোডিনহো, বিশ্বজিৎ রানে, মিলিন্দ নায়েক এবং নিলেশ কাবরাল।

সোমবার গভীর রাতে শরিকদের সঙ্গে রফায় আসার পর হবু মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে রাজভবনে ছুটে যান নিতিন গড়কড়ি এবং রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহার কাছে সরকার গড়ার দাবি জানান। আর অপেক্ষা না করেই আরও গভীর রাতে, রাত দুটোয় শপথ দিয়ে দেওয়া হয় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের।

কংগ্রেস ক্ষুব্ধ

রাজ্যপালের এই আচরণে বেজায় চটেছে কংগ্রেস। রাজ্যপালকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সুনীল কাওথানকর বলেন, “সরকার গড়ার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও বিজেপিকে ঘোড়া কেনাবেচা চালিয়ে যেতে দিয়ে এবং রাজ্যের একক বৃহত্তম দলকে সরকার গড়তে না ডেকে যে অগণতান্ত্রিক কাজ রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহা করেছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি।”

৪০ সদস্যের বিধানসভায় মনোহর পর্রীকরের মৃত্যুর পর এখন সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬। এর মধ্যে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১২। আর বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি ও মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তকের ৩ জন করে বিধায়ক এবং ৩ নির্দল বিধায়ক। শাসক জোটের ২১ সদস্যের মধ্যে ১২ জনই মন্ত্রী।

আর সমর্থনকারী নয় বিধায়কের মধ্যে আট জনকে মন্ত্রী করে রফায় এলেন অমিত শাহরা।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here