Unnao truck collision
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: গত রবিবার উন্নাও থেকে রায়বরেলি যাওয়ার পথে নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারের গাড়িতে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। উল্টো দিক থেকে ছুটে আসা সেই ট্রাকের নম্বর প্লেটে কালো কালি লেপা ছিল। তবে ঘটনার পর তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য- মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ওই ট্রাকের নম্বর প্লেটে কোনো কালিই ছিল না। তা হলে কি আশঙ্কায় সত্যি? পরিকল্পনামাফিক দুর্ঘটনারই শিকার হতে হয়েছে উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডের নির্যাতিতাকে?

ওই দিন সকালে উন্নাও থেকে রায়বরেলি যাওয়ার পথে গুরুবক্সগঞ্জে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নির্যাতিতার গাড়ি। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে একটি টোল প্লাজার সিসিটিভিতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, ট্রাকটির নম্বর প্লেটে কোনো কালি লেপা ছিল না। অর্থাৎ, এই দূরত্ব অতিক্রম করার সময় মাঝপথেই নম্বর প্লেটটিতে কালি লাগানো হয়। কিন্তু সেটা কখন এবং কোথায়? লাগাল কে?

ট্রাকের মালিক দেবেন্দ্র কিশোর পাল অবশ্য আগেই বলেছেন, তিনি যে ফিনান্সারের কাছ থেকে গাড়ি কিনেছিলেন, তাদের টাকা শোধ করতে না পারায় ঋণ এড়াতেই কালি লেপা হয়েছিল নম্বর প্লেটে। ফিনান্স সংস্থার এজেন্টের নজর এড়াতেই এই পন্থা অবলম্বন করেছিলেন তিনি। বেশ কয়েকটা কিস্তি বাকি পড়ে যাওয়ার পরই তিনি নম্বর প্লেটে কালি লেপে দেন।

তবে তদন্তকারীরা তাঁর কথায় আশ্বস্ত হতে পারেননি। এর উপর ওরিক্স ফিনান্স কোম্পানির ম্যানেজার শশী কুমার স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন, দেবেন্দ্র কিশোর সব মিলিয়ে তিনটি গাড়ি কিনেছিলেন তাঁদের কাছ থেকে। একটির টাকা মিটে গিয়েছে। বাকি দু’টির টাকাও তিনি পরিশোধ করছিলেন। শেষ কয়েকটা কিস্তি বাকি পড়েছিল। ফলে ঋণের টাকা শোধের সঙ্গে ট্রাকের নম্বর প্লেটে কালি লেপার কোনো সম্পর্কই নেই। তাঁরা টাকার জন্য কখনোই দেবেন্দ্র কিশোরকে চাপ দেননি।

[ আরও পড়ুন: দু’সপ্তাহ আগে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করেছিলেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা ]

শশী বলেন, “গত ২৫-২৬ জুন আমি দেবেন্দ্র কিশোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। ওরিক্স বৃহত্তম ফিনান্স সংস্থা। কানপুরে আমাদের হেডঅফিস। আমরা কখনোই গ্রাহকের টাকা বাকি পড়লে গাড়ি কেড়ে নিই না। দেবেন্দ্র মাসে ৮০ হাজার টাকা কিস্তি বাবদ দিতেন।তিনি আমাদের পুরনো ক্লায়েন্ট। ফলে কয়েকটা মাত্র কিস্তি বাকি পড়ায় আমরা খুব একটা বিচলিত নই”।

[ আরও পড়ুন: উন্নাওয়ের ধর্ষিতা সংকটজনক, বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের মামলা ]

তদন্তে ধরা পড়েছে, লালগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে বেরিয়ে ট্রাকটি রাজঘাটের সোহরাবে একটি নির্মাণ সংস্থায় বালি পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে ফতেপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর পরই নম্বর প্লেটে কালি লেপা হয়। সিসিটিভি ফুটেছে তেমন তথ্যই উঠে এসেছে। তবে এই ‘কালি’ বিজেপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের ‘কালো অধ্যায়’ ঢাকতেই কি না, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন