নোংরা করলে পঞ্চাশ হাজার জরিমানা, গঙ্গাদূষণ রোধে একাধিক প্রস্তাব পরিবেশ আদালতের

0
343

নয়াদিল্লি: গঙ্গায় বর্জ্য পদার্থ ফেললে পঞ্চাশ হাজার টাকার জরিমানা দেওয়ার পাশাপাশি, দূষণ রোধে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিল জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি)। এমনই জানা গিয়েছে সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে।

বৃহস্পতিবার, এনজিটি-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি স্বতন্ত্র কুমারের নেতৃত্বাধীন একটি ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে এখন থেকে গঙ্গায় বর্জ্য পদার্থ ফেললে স্থানীয় প্রশাসন যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার জরিমানা আদায় করে। সেই সঙ্গে তারা আরও জানিয়েছে, হরিদ্বার থেকে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও পর্যন্ত গঙ্গার দু’ ধারে পাঁচশো মিটারের মধ্যে কোনো দূষণ যেন না ছড়ানো হয়, সে ব্যাপারেও দেখতে হবে প্রশাসনকে। সেই সঙ্গে তারা আরও জানিয়েছে যে ওই একই এলাকায় গঙ্গার দু’ ধারের একশো মিটার এলাকাকে ‘নো-ডেভলপমেন্ট জোন’ ঘোষণা করতে হবে। অর্থাৎ ওই অঞ্চলে কোনো নির্মাণকাজ করা যাবে না।

গঙ্গা বা তার কোনো শাখানদীর ধারে আয়োজিত হওয়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা তৈরি করার জন্য উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে এনজিটি। পরিবেশ আদালত আরও জানিয়েছে যে উন্নাও থেকে উত্তরপ্রদেশেরই জাজমৌ পর্যন্ত গঙ্গার ধারে যে সমস্ত চামড়ার কারখানা রয়েছে, সেগুলি অন্যত্র স্থানান্তরিত করতে হবে। প্রসঙ্গত গত এপ্রিলে যোগী সরকার এনজিটিকে জানিয়েছিল চামড়ার কারখানাগুলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য কানপুরে নতুন জমি দেখা শুরু করেছে তারা।

শুধুমাত্র এই চামড়ার কারখানাগুলির জন্য বুধবারই কিছু নির্দেশিকা দিয়েছিল এনজিটি। তারা বলেছিল, নদীতে বর্জ্য পদার্থ ফেলা আটকাতে এই কারখানাগুলি যেন ‘ক্রমিয়াম রিকভারি প্লান্ট’ বসিয়ে নেয়। এই জন্য কারখানাগুলিকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছিল এনজিটি। এটা না করলে কারখানাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, এমনও জানিয়েছিল এনজিটি।

তাদের এই নির্দেশগুলি যাতে ঠিকঠাক কার্যকর করা হয়, সেটা দেখার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছে এনজিটি।

কোথায় গেল দূষণ রোধে বরাদ্দ ৭০০০ কোটি? সিবিআই তদন্ত দাবি পরিবেশবিদের

হরিদ্বার থেকে উন্নাও পর্যন্ত গঙ্গার পাড় পরিষ্কার করার জন্য এর আগে সাত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, সেই টাকার কী হল, তা জানার জন্য সিবিআই তদন্ত দাবি করলেন পরিবেশবিদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী এমসি মেহতা।

গঙ্গা দূষণ সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন এই প্রসঙ্গ তোলে পরিবেশ আদালত। জানিয়ে দেয়, গঙ্গা দূষণ রোধে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার সাত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, গঙ্গার আশেপাশের পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এই কথা শুনে মেহতা বলেন, “গঙ্গাকে পরিষ্কার করার জন্য যা টাকা বরাদ্দ হয়েছে সেগুলো সব নষ্ট হয়েছে। আমার মতে এর কারণ জানার জন্য কেন্দ্রের তদন্ত করা উচিত। এর জন্য সিবিআই তদন্ত হোক অথবা সিএজির দ্বারা বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা করা হোক।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here