বিলকিস বানো
বিলকিস বানো। প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনকে মেয়াদ ফুরনোর আগেই মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি, NHRC, National Human Rights Commission) সোমবার ‘আলোচনা’য় বসবে। বিশ্বস্ত সূত্রে এ কথা জানতে পেরেছে দ্য সানডে এক্সপ্রেস

সপ্তাহখানেক আগে গুজরাত সরকারের নির্দেশে গোধরা সাব-জেল থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার কমিশন ‘আলোচনা’য় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে দ্য সানডে এক্সপ্রেসের তরফে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি অরুণ মিশ্রের অফিস খবরের সত্যতা স্বীকার করে।

গোধরা স্টেশনে সবরমতী এক্সপ্রেসে ৫৯ জনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার পর সারা গুজরাত জুড়ে দাঙ্গা বাঁধে। সবরমতী এক্সপ্রেসে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগ ছিলেন করসেবক। দাঙ্গা বাঁধে গুজরাতের দাহোদেও। ২০০২-এর ৩ মার্চ দাহোদে বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ করা হয়। সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর ৩ বছরের কন্যা সলেহা এবং আরও ১৪ জনকে খুন করা হয়।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, দাহোদের ঘটনা নিয়ে তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল গুজরাত পুলিশ। মানবাধিকার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপের পর আইনি সহায়তা পেয়ে বিলকিস বানো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জে এস বর্মার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন মানবাধিকার কমিশন ২০০২-এর মার্চে গোধরায় এক ত্রাণশিবিরে বিলকিস বানোর সঙ্গে দেখা করে। সুপ্রিম কোর্টে বিলকিসের হয়ে লড়ার জন্য কমিশন প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভেকে নিয়োগ করে।

সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন সালভে বিলকিসের ঘটনা নিয়ে নতুন করে সিবিআই তদন্ত দাবি করেন। এবং এ সংক্রান্ত মামলা গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আর্জি পেশ করেন। বিলকিসের ঘটনাটিই গুজরাত দাঙ্গা সম্পর্কিত একমাত্র ঘটনা যার নতুন করে তদন্ত করেছিল সিবিআই।

২০০৮-এর ২১ জানুয়ারি সিবিআই বিশেষ আদালতের বিচারক ইউ ডি সালভি বিলকিসের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এদের মধ্যে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৭-এর মে মাসে বোম্বে হাইকোর্ট এই রায় বহাল রাখে।  

মানবাধিকার কমিশন কী করতে পারে

মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো অভিযোগ নিয়ে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করতে পারে। কেউ হস্তক্ষেপ চেয়ে কমিশনে আর্জি পেশ করলে তার ভিত্তিতে কমিশন তদন্ত তো করতেই পারে, এমনকি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবেও তদন্ত করতে পারে। যদি মনে করে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে রিপোর্টও চাইতে পারে কমিশন। অভিযোগকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যেতে চাইলে কমিশন তাঁদের আইনগত ও আর্থিক সহায়তা সুনিশ্চিত করতে পারে।

বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের আগেই ছেড়ে দেওয়ায় দেশ জুড়ে যে হইচই শুরু হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আলোচনায় বসছে।

চেয়ারপার্সন ছাড়াও মানবাধিকার কমিশনে ৩ জন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ৬ জন পদাধিকার বলে সদস্য এবং একজন বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য রয়েছেন। সোমবারের আলোচনার বিষয়টি নিয়ে দ্য সানডে এক্সপ্রেস কমিশনের ৮ জন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁদের বেশির ভাগই হয় জানান তাঁরা বিষয়টি নিয়ে অবহিত নন অথবা মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

আরও পড়তে পারেন

পরিচয় এবং মতামতের পার্থক্যকে সম্মান করা হয় তেমন গণতন্ত্র চাই, আর্জি প্রধান বিচারপতির

‘দলের সঙ্গে ছিলাম, দলের সঙ্গে আছি’, সাসপেন্ড হওয়ার পরও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা পার্থর

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী-সহ ৩৪ জনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, গ্রেফতার হতে পারেন ইমরান খান

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না, সরকারি অফিস এখন ব্যাপক দুর্নীতির আখড়া, মন্তব্য কর্নাটক হাইকোর্টের

মিলল না জামিন! আরও কত দিন সিবিআই হেফাজতে অনুব্রত মণ্ডল

আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই গ্রেফতার হবেন মণীশ সিসোদিয়া! কী কারণে, সেটাই জানালেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন