নয়াদিল্লি: ২০১২-র ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার সময় দিল্লির বাসে ধর্ষিত হয়েছিল বছর ২৩-এর প্যারা মেডিক্যালের ছাত্রী। ঘটনার বীভৎসতায় শিউরে উঠেছিল সারা দেশ। শুক্রবার নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। দোষীদের নাম বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত এবং মুকেশ সিংহ। দোষীদের আইনজীবী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হবে।

“এটি বিরলের থেকেও বিরলতম ঘটনা, এই অপরাধ আমাদের সুনামির মতো স্তম্ভিত করেছে”, রায় ঘোষণার সময় জানায় শীর্ষ আদালত। ২০১৩ সালেই ওই ৪ ব্যাক্তির ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছিল নিম্ন আদালত। হাইকোর্ট সেই রায়কে সমর্থন করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল দোষীরা। কিন্তু দোষী ৪ জনের ফাঁসির সাজাই বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত।

বছর পাঁচেক আগে এক শীতের সন্ধ্যায় সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন দিল্লির তরুণী। সঙ্গীকে নিয়ে বাসে ওঠেন তরুণী এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই চলন্ত বাসে ৬ জন মিলে তরুণীকে গণধর্ষণ করেন। সঙ্গে চলতে থাকে নৃশংস শারীরিক নির্যাতন। অগ্নাশয়ের গভীর ক্ষত নিয়ে ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয় নির্ভয়ার।

২০১৩ সালে তিহার জেলে ৬ জন দোষীর মধ্যে বাসচালক রাম সিংকে পাওয়া যায় ঝুলন্ত অবস্থায়। আর ষষ্ঠ ধর্ষণকারীর বয়স সে সময় ১৮ বছরের কিছু (কয়েক মাস) কম হওয়ায় ‘নাবালক ন্যায়বিচার’ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়নি তাকে। তিন বছরের জেল খাটার পর ২০১৫ তে মুক্তি পায় সে।

ঘটনার পর তরুণীর বাবা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “দোষীদের ফাঁসি হওয়াই উচিত। এর চেয়ে বর্বর অপরাধ আর হয় না”।  সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে খুশি নির্ভয়ার  পরিবার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here