অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে পণ-মামলায় গ্রেফতারি নয়, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

0
397
sc

নয়াদিল্লি: ক্ষুব্ধ স্ত্রীরা তাঁদের স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে পণ-বিরোধী আইন কাজে লাগাচ্ছে। এই প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, পণ-বিরোধী আইনে দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো রকম গ্রেফতারি বা দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

শীর্ষ আদালত লক্ষ করেছে, বিবাহ সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িত মহিলাদের অনেকেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ এ ধারার অপব্যবহার করে স্বামী এবং তাঁর বাবা-মা, ভাইবোন, দাদু-ঠাকুমা এমনকি নাবালক শিশুদেরও ফৌজদারি মামলায় জড়াচ্ছেন। বিচারপতি এ কে গোয়েল এবং বিচারপতি ইউ ইউ ললিতকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বলে, যে সব ফালতু মামলায় নিরীহ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, সে সব মামলা ঠেকানোর সময় এসেছে।

বিচারালয়ে এমন একটা ধারণাই বিদ্যমান যে, মহিলারা ঘরে বসে বসে অবিচারের শিকার হবেন, তবু পরিবারের সম্মানহানির ভয়ে পারিবারিক বিবাদকে চার দেওয়ালের বাইরে নিয়ে যাবেন না। শীর্ষ আদালতের এ দিনের নির্দেশ কিন্তু এই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। চলতি ধারণা থেকে বেরিয়ে গিয়ে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত বলেছে, অত্যাচারের শিকার বলে যিনি অভিযোগ করছেন, তাঁর সব কথাই সত্যি বলে ধরে নিলে চলবে না।

শীর্ষ আদালত বলেছে, “এটা খুব উদ্বেগের বিষয় যে বিবাহিতা মহিলাদের ওপর নিগ্রহের অভিযোগে ৪৯৮ এ ধারায় প্রচুর মামলা জমা পড়ছে। এ ধরনের বহু অভিযোগ কিন্তু সত্যি নয়। অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় ভাবা হচ্ছে না এর ফল কী হতে পারে, পরিণাম কী হতে পারে। অনেক সময়ে এ ধরনের অভিযোগে শুধু অভিযুক্তেরই নয়, অভিযোগকারীরও অযথা হয়রানি হয়। অযথা গ্রেফতারি করলে মিটমাট করে নেওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।”

পণ-বিরোধী আইনে দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিটি জেলায় পরিবার কল্যাণ কমিটি গড়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার প্রতিটি রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here