নয়াদিল্লি: বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি ছাড়া ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে করেসপন্ডেন্স কোর্স করাতে পারবে না কোনো ডিম্‌ড বিশ্ববিদ্যালয়। এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে করেসপন্ডেন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রি দেওয়ায় চারটে এ রকম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল তারা।

এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের দিকেই বেশি নজর দেয় বলে মত প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। আগামী এক মাসে যাতে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের নামে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দ ব্যবহার না করতে পারে, সেটা দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) দিয়েছে বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েল এবং ইউইউ ললিতের ডিভিশন বেঞ্চ।

এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আরও একটি নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যে চারটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত, সেই জেআরএন রাজস্থান বিদ্যাপীঠ, আইএএসই রাজস্থান, এলাহাবাদ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট এবং তামিল বিনায়ক মিশন রিসার্চ ফাউন্ডেশন থেকে যত জন পড়ুয়া ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন, সেই ডিগ্রি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে তারা।

এই চারটে বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসি যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটাকেও বেআইনি ঘোষণা করেছে আদালত। ভারতের কারিগরি শিক্ষার নিয়ামক সংস্থা অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের (এআইসিটিই) অনুমোদন ছাড়াই নিজেদের পাঠক্রমে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, এমনই মত সুপ্রিম কোর্টের।

ডিগ্রি বাতিল করার নির্দেশের ফলে যে সমস্ত পড়ুয়া বা চাকুরীজীবীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল তাদের জন্য উপায়ও বলে দিয়েছে আদালত। ২০১৮-এর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এই সব পড়ুয়ার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এআইসিটিইকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশ করার জন্য পড়ুয়ারা সর্বোচ্চ দু’টো সুযোগ পাবেন বলেও জানিয়েছে আদালত। ওই পরীক্ষার পাশ করে গেলে পড়ুয়ারা বর্তমানে যে সব সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন সেগুলি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যারা আর পরীক্ষা দিতে চায় না, তাদের পুরো কোর্স ফি ফেরত দেওয়ার জন্য ওই চারটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ডিম্‌ড বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পরিদর্শন করার জন্য কেন্দ্রকে এক মাসের মধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই কমিটিতে একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ থাকবেন, থাকবেন তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কোনো অফিসার এবং প্রশাসনের একজন। তদন্ত করে যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কিছু গলদ পাওয়া যায়, তা হলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে করেসপন্ডেন্স কোর্স করাতে পারবে না সেগুলি।