last journey of manohar Parrikar
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পর্রীকরের শেষ যাত্রা। ছবি সৌজন্যে স্ক্রলডটইন।

ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হল গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পর্রীকরের। পর্রীকরের শূন্য আসনে বসার জন্য সোমবার রাত পর্যন্ত কোনো সর্বজনগ্রাহ্য নেতা খুঁজে পায়নি বিজেপি। শরিকদলগুলির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। পর্রীকরের শেষকৃত্যের পর বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেন, “আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। পর্রীকর যে শূন্যস্থান রেখে গেলেন তা পূর্ণ করা খুবই কঠিন।”

সোমবার সন্ধ্যায় খবর রটে যায়, বিধানসভার স্পিকার প্রমোদ সবন্ত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। দু’ জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তাঁরা হলেন গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির বিজয় সারদেশাই এবং মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সুদিন ধবলিকর। রাতেই তাঁদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সেই শপথ অনুষ্ঠান পিছিয়ে যায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত। রাজ্য সরকারের তথ্য দফতর জানায়, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল ১১টায়।

সেই কর্মসূচিও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাত সোয়া ১১টয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানায়, ডেপুটি স্পিকার মাইকেল লোবো বলেছেন, “মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজভবনে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর যে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল তা বাতিল করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন মনোহর পর্রীকর: ‘গির্জা এবং আরএসএসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অনিচ্ছুক রাজনীতিক’

সূত্রের খবর, শরিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে সোমবার গভীর রাতেও। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার মতো এখনও সর্বসম্মত কাউকে খুঁজে পায়নি বিজেপি।

সোমবার সকালেই গোয়া বিধানসভার স্পিকার প্রমোদ সবন্তের নাম পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করেছিল বিজেপি। কিন্তু তা পত্রপাঠ প্রত্যাখান করে দেন শাসক জোটের ন’জন বিধায়ক। এই ন’জনের মধ্যে তিন জন মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির, তিন জন গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির এবং তিন জন নির্দল। শরিকদের পছন্দের মুখ্যমন্ত্রীপদপ্রার্থী বিজেপি রাহ্য সভাপতি বিনয় তেন্ডুলকর। যদিও তেন্ডুলকরের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করে বিজেপি তখন বলেছিল, বিকেলের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু রাত পর্যন্ত বিজেপি আতান্তরেই রয়েছে।

পর্রীকরের মৃত্যুর পর রাজ্যের হাল কে ধরবেন, সেই নিয়ে যখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট ডামাডোলে, ঠিক তখন পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে আসরে নেমে পড়ে কংগ্রেস। গোয়ার বর্তমান সরকার ফেলে দিয়ে নতুন করে কংগ্রেসকে সরকার গড়ার আহ্বান জানানো হোক, এই দাবি নিয়ে  সোমবার সকালে রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহার সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতারা।

উল্লেখ্য, পর্রীকরের মৃত্যুর আগেই মারা যান আরও এক বিজেপি বিধায়ক ফ্রান্সিস ডি’সুজা। সেই সঙ্গে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দুই কংগ্রেস বিধায়ক। সব মিলিয়ে ৪০ আসনের গোয়া বিধানসভার সদস্যসংখ্যা এখন ৩৬। এর মধ্যে ১৪টা আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল কংগ্রেস। অন্য দিকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১৩।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here