প্রকৃতির রোষ! দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত ওরা

0
জলের মধ্যে পুজো মণ্ডপ। উদয়নারায়ণপুরে।

ওয়েবডেস্ক: সারা বছর যার জন্য অপেক্ষা করে থাকা, সেই দুর্গাপুজো যখন এল, তার সঙ্গে এসে পড়ল নদীর জল। ফলে শারদীয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলের কচিকাঁচারা।

খুব একটা দূরে যেতে হবে না। কলকাতা থেকে মেরেকেটে ৭০ কিমি। হাওড়ার আমতা এবং উদয়নারায়ণপুর ব্লক। মহালয়া পর্যন্তও ওই অঞ্চলগুলি আসন্ন দুর্গাপুজোর আনন্দে মশগুল হয়েছিল।

কিন্তু প্রকৃতির খেয়াল সম্ভবত অন্য রকম ছিল। সোমবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জল ঢুকে পড়ল এই সব অঞ্চলের একাধিক গ্রামে। গত কয়েক দিন বৃষ্টি হচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু তা যে এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, তা ভাবতে পারা যায়নি।

রবিবার থেকে জল ছাড়তে শুরু করেছিল ডিভিসির মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার। এই জলাধারগুলি থেকে জল পেয়ে জল ছাড়তে বাধ্য হয় দুর্গাপুর ব্যারেজও। সেই জল ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে হাওড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

বাদ পড়েনি হুগলিও। চাঁপাডাঙা, পুরশুড়া-সহ একাধিক অঞ্চল জলের তলায়। দুর্গামণ্ডপের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে নদীর জল। শেষ মুহূর্তে এ ভাবে প্লাবন শুরু হওয়ায় মাথায় হাত পুজো-উদ্যোক্তাদের। অনেককেই পুজোর আয়োজন ছেড়ে লেগে পড়তে হচ্ছে বন্যার ত্রাণের কাজে হাত লাগাতে।

যাঁরা ভেবেছিলেন, পুজোটা দুর্দান্ত ভাবে কাটাবেন, তাঁদের অনেকেই এখন ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে পাকা সড়কের ওপরে। সম্বল একটা ত্রিপল।

হাওড়া-হুগলির অবস্থার থেকেও খারাপ মালদা এবং মুর্শিদাবাদের অবস্থা। এই অঞ্চলে তো তাও বৃষ্টি ধরেছে, এবং ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোয় কয়েক দিনের মধ্যেই জল হয়তো পুরোপুরি নেমেও যাবে। কিন্তু মালদা, মুর্শিদাবাদের ভাগ্য হয়তো এতটা ভালো নয়।

গঙ্গা, ফুলহার, মহানন্দা সবাই বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। মালদার সদর, মানিকচক, রতুয়া-সহ একাধিক জায়গা জলের তলায়। এখনও জলবন্দি হয়ে রয়েছে মালদা এবং ইংরেজবাজারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা লাগোয়া বেশ কিছু গ্রামে বন্যাপরিস্থিতি।

সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকার পর সব থেকে আনন্দের মুহূর্তে প্রকৃতি যদি এ রকম বেঁকে বসে তা হলে কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন জলবন্দি পটনায় নতুন করে আতঙ্ক

শুক্রবার মা দুর্গার বোধন। হইহই করে শুরু হয়ে যাবে দুর্গাপুজো। ব্যাপারটা কিছুটা বেমানান লাগলেও সত্যি। এক দিকে যখন রাজ্যের একটি প্রান্ত মেতে উঠবে দুর্গাপুজোয়। যখন শহরের একটি মণ্ডপে সোনার দুর্গা দেখার জন্য ভিড় করবে সাধারণ মানুষ। দেদার উঠবে সেলফি, তখন রাজ্যে একটা অংশে শুধুই অন্ধকার।

হয়তো আরও এক বছরের অপেক্ষা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.