কাজ না পেলে একটাও ভোট নয়, মোদীকে সতর্ক করল রাজস্থানের এই গ্রাম

0
319
narendra modi

ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানের কসবা বনলি গ্রামের বাসিন্দা রাকেশ কুমার। পড়াশোনায় তিনি স্নাতকোত্তর, কিন্তু কাজের অভাবে এখন পেশায় রঙমিস্ত্রি। আট ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র রাকেশই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী চাকরির অভাব এখন তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

চাকরির ব্যবস্থা না করে দেওয়ার জন্য মোদী সরকারের ওপরেই দোষ চাপিয়েছেন রাকেশ। তিনি বলেন, “আমি গত বার মোদীকেই ভোট দিয়েছিলাম। তিনি চাকরির ব্যাপারে কথা দিয়েছিলেন। আমিও নিশ্চিত ছিলাম চাকরি আমি পাবই। কিন্তু কিছুই হয়নি। আমি আর মোদীকে ভোট দেব না।”

তিরিশ লক্ষ মানুষকে চাকরি দেবেন তিনি, এই প্রতিশ্রুতিতেই গদিতে বসেছিলেন মোদী। কিন্তু চার বছর পর চাকরির হাল যখন ক্রমশ বেহাল হয়ে পড়ছে তখন মনে হচ্ছে মোদীর গদি এ বার সত্যিই টলমল।

শুধু রাকেশই নন, ২০১৩-এর বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরের বছরে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছিল এই কসবা বনলি গ্রাম। স্থানীয় কৃষক নেতা হনুমানপ্রসাদ মিনা বলেন, “আমার দুই ছেলেই শিক্ষিত কিন্তু বেকার। এখানকার অনেক কৃষকই মোদীর নামে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু মোদীর আর কোনো সমর্থক এই গ্রামে নেই।”

২০১৩ সালে এই গ্রামে যখন রয়টার্স গিয়েছিল, তখন সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই। নরেন্দ্রভাই মোদী। তিনি কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কী রকম চকারির জোয়ার তিনি এনে দেবেন, কী ভাবে উন্নত হবে কৃষি, সে সবই আলোচনা হচ্ছিল তখন। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই এখনও সে ভাবে পূরণ হয়নি। গত ১৬ মাসের মধ্যে দেশের বেকারত্বের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চাকরির করুণ ছবি তখনই বোঝা যায় যখন দেখা যায় যে রেলের ৯০,০০০ ফাঁকা পদের জন্য আবেদন করেছেন ২৫ লক্ষ প্রার্থী।

চাকরির ছবি যে ভালো নয় সেটা শিকার করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার যে অনেক ভাবে চেষ্টা করছে সে কথাও বলেন পাসোয়ান। তবে পুরো দোষ নিজেদের ঘাড়ে না চাপিয়ে রাজ্য সরকারের ঘাড়েও চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “মানুষ চায় নরেন্দ্র মোদী সবাইকে চাকরি দেবেন। এ ব্যাপারে রজ্য সরকারেরও তো কিছু ভূমিকা থাকে। তবুও পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাচনের সময়ে একটা ছোটো ব্যাপারও বড়ো কারণ হয়ে উঠতে পারে।”

ফিরে আসা যাক কসবা বনলির কথায়। মোদী হাওয়া যখনও বওয়া শুরু হয়নি, তখন এই গ্রামের জন্য অনেক কিছু করেছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। একটা বড়ো রিটেল সেন্টার বদলে দিয়েছিল কসবা বনলিকে। এর ফলে এখানকার অনেক গরিব চাষিরই জীবন উন্নত হতে শুরু করে। চাষিরা যত আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন, তাঁরা চেয়েছেন তাঁদের সন্তানরা যেন আর কৃষিকাজে না থাকে। এইখানেই কাজ করেছিল মোদীর প্রতিশ্রুতি।

চাকরির ব্যাপারে মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে ভরসা পেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। ২০১৩-তে বিজেপির এক নেতাকেই এখানকার বিধায়ক করে রাজস্থান বিধানসভায় পাঠানো হয়। ১৯৯১-এর পর সেই প্রথম বিজেপি বিধায়ক পায় এই অঞ্চল। কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষে পাল্লা আবার ভারী হচ্ছে বলে মনে করেন গ্রামবাসীরা।

রাজস্থানের কংগ্রেসের প্রধান ভরসা সচিন পাইলট মনে করেন, বিজেপি যখন জানতই যে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তখন সেটা দিল কেন। তাঁর দল যে এ রকম ভাবে ‘ভুল প্রতিশ্রুতি’ দেবে না সেটাও মনে করিয়ে দেন সচিন। বরং প্রচারে বলা হবে, “চাকরির পরিস্থিতি যাতে তৈরি হয় সে চেষ্টাই করা হবে।” আসন্ন বিধাবসভা নির্বাচনে বিজেপির অবস্থা যে ভালো নয়, সে কথা মনে করিয়ে দেন বিজেপির স্থানীয় নেতা হনুমান দীক্ষিতও।

যদিও কেন্দ্রের দাবি, ৩১ মার্চ পর্যন্ত গত অর্থবর্ষে ৭ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে তারা। কিন্তু এখানে এটাও দেখতে হবে যে গত চার বছর শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও দাঁড়িয়ে রয়েছে ৮০ লক্ষে।

গত তিন বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে চাকরিতে তাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে হবে। বিক্ষোভ হয়েছে, ধর্না হয়েছে, দেশ অশান্ত হয়েছে। কিন্তু কসবা বনলিতে এই ছবিটা কখনও দেখা যায়নি। এখানে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু অপরাধের কোনো ইতিহাস নেই। কোনো বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেনি। কিত্নু গ্রামেই কি চাকরির অভাব শুধু, শহরেও তো ছবিটা কোনোরকম আলাদা নয়। চা-বিক্রি করার মাঝেই ২১ বছরের বাবলু সাইনি বলেন, “আমার অনেক বন্ধুকেই তো দেখলাম, শহর থেকে চাকরি না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছে।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here