ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আর নয়, জানিয়ে দিল এআইসিটিই

0
anil sahasrabudhe
অনিল সহস্রবুধে। ছবি সৌজন্যে এআইসিটিই-ইন্ডিয়াডটওর্গ।

নিজস্ব প্রতিনিধি: সারা দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ইঞ্জিয়ানিয়ারিংয়ে আসনসংখ্যাও। কিন্তু পড়ুয়া নেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে। শুক্রবার শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে এক বণিকসভার অনুষ্ঠানে অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের (এআইসিটিই) চেয়ারম্যান অনিল সহস্রবুধে জানান, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ সালে নতুন করে আর কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, কলেজে আসন বৃদ্ধির কোনো আবেদনও গ্রহণ করা হবে না। মূলত চাহিদা আর জোগানের ভারসাম্যব রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আর পড়ুন স্বর্গ থেকে পড়বে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি? কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল প্রণবের!

সহস্রবুধে এ দিন বলেন, সারা দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে বহু আসন আছে। কিন্তু সেই পরিমাণ পড়ুয়া নেই বা ভর্তি হচ্ছে না। যেখানে ভর্তির চাহিদা কম, সেখানে আসন বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। হায়দরাবাদ আইআইটির চেয়ারম্যান বি ভি আর মোহন রেড্ডীর সভাপতিত্বে গঠিত একটি সরকারি কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী এআইসিটিই এই সিদ্ধান্ত করেছে। ওই প্রস্তাবে ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ সালে কোনো নতুন কলেজকে অনুমোদন না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিক্যালে আসন সংখ্যা না বাড়ানোর জন্য সব কলেজকেই বলা হয়েছে।

এআইসিটিই-র ধারণা, আসন সংখ্যা আপাতত সীমিত করলে ঐতিহ্যশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপকার হবে। এআইসিটিই বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী কোর্স যেমন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লকচেন, রোবটিক্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং থ্রি ডি পেন্টিং-এর উপর জোর দিয়ে পাঠক্রম চালু করার সুপারিশ করেছে।

সহস্রবুধে জানিয়েছেন, বিটেক ও এমটেকে আসন সংখ্যা গোটা দেশেই কমছে। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এই দুই পাঠক্রমে আসন রয়েছে ১.৬৭ লক্ষ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সব চেয়ে কম।

এ দিন এআইসিটিই-র চেয়ারম্যান জানান, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষকদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে সিলেবাসের পরিবর্তন হচ্ছে, প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটছে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে শিক্ষকরা যাতে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারেন, সে দিকে তাকিয়েই এই ব্যবস্থা। প্রশিক্ষণে যোগ না দিলে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া, যে সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিকাঠামোগত ভাবে দুর্বল, যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক- শিক্ষিকা নেই, সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে এআইসিটিই।

এ দিন সহস্রবুধে বলেন, এনআইটি, আইআইটি থেকে অবসর নিয়েছেন এমন অধ্যাপকদের নিযুক্ত করা হবে। বর্তমানে ৪০০ জন অধ্যাপক এমন রয়েছেন যাঁরা বিভিন্ন ধরনের কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত। এঁদের কাজ হবে মূলত ফর্ম ফিল আপ, স্ট্যাটাস রিপোর্ট তৈরি করার মতো বিস্ময়গুলো সামলানো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here