‘উত্তরপূর্বের চিন্তাকে দূর করবই’, রাজ্যসভায় বিল পেশ করে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

নয়াদিল্লি: “উত্তরপূর্ব ভারতকে চিন্তা করতে হবে না। তাদের চিন্তা আমরা দূর করবই।” রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল পেশ করে এ ভাবেই বিক্ষুব্ধদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে অমিত শাহ আরও বললেন যে এই বিল আদৌ মুসলিম বিরোধী নয়।

সোমবার লোকসভায় সহজেই পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল। কিন্তু আসল পরীক্ষা এ বার রাজ্যসভায়। কারণ সংসদের ওপরের কক্ষে বিজেপি ‘সংখ্যালঘু।’ সেই রাজ্যসভাতেই এ দিন বেলা বারোটায় বিল পেশ করলেন অমিত শাহ।

এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় মোট সদস্যসংখ্যা ২৪০, অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে ১২১-এ। এর মধ্যে বিজেপির একাই রয়েছে ৮১। তবে এআইএডিএমকে, জেডিইউ আর অকালি দলের মতো বর্তমান শরিকদের কথা মাথায় রাখা হয়, তা হলে এনডিএ-এর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১১৬-এ।

এই পরিস্থিতিতে শিবসেনার ভূমিকা কী হবে, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। লোকসভায় এই বিলে সমর্থন করে কংগ্রেসের ক্ষোভের শিকার হয়েছে সেনা। এমন কি এই বিলকে সমর্থন করার জন্য সেনা নেতাদের ভর্ৎসনাও করেছে কংগ্রেস নেতারা, এমনই খবর বিভিন্ন সূত্রে। আর তার পরেই আবার ভোল বদল করেছে সেনা।

মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানান, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের ব্যাপারে তাঁদের মতামত বদলে যেতে পারে। এমনটা যদি হয়, তা হলে বিজেপির বিপদ রয়েছে।

এ ছাড়া এনডিএ বা বিরোধী, কোনো শিবিরে না থাকা কিছু দলও রয়েছে যেমন নবীন পট্টনায়কের বিজেডি, জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস আর চন্দ্রশেখর রাওয়ের টিআরএস। তারা কোন দিকে ভোট দেয় তার ওপরেও নির্ভর করছে এই বিলের ভাগ্য।

তবে ভোটাভুটির সময়ে সেনা ও উল্লিখিত তিনটে দল যদি ভোটদানে বিরত থাকে তা হলে আখেরে লাভ হবে বিজেপিরই। কারণ তখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংখ্যা অনেকটাই নীচে নেমে আসবে।

আরও পড়ুন নাগরিকত্ব বিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

এ দিকে কংগ্রেস-সহ ইউপিএ-এর শরিকদের ৬৪জন সদস্য রয়েছে রাজ্যসভায়। সেই সঙ্গে তৃণমূল, সিপিআই, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি মিলিয়ে আরও ৪৬ জনের সমর্থন জোগাড় করতে পারে তারা। ফলে বিরোধীদের পক্ষে ভোট ১১০-এ পৌঁছতে পারে।

একদিকে বিজেপির পক্ষে ১১৬, অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষে ১১০। ১২১ সংখ্যাটি পেরোতে যে অবিজেপি, অকংগ্রেসী দলগুলোর ভূমিকা মহাগুরুত্বপূর্ণ হবে তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু এই বিল নিয়ে উত্তরপূর্বে যে ধরনের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কেন্দ্রের উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এমন কি এ দিন সকালেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে জানান, এই বিলের মধ্যে দিয়ে উত্তরপূর্বের বাসিন্দাদের জাতিগত ভাবে মুছে দেওয়া হচ্ছে।

আর ঠিক এই কারণেই অমিত শাহ ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.