দক্ষিণের পর বন্যা-ধসের দাপট উত্তর ভারতে, মৃত অসংখ্য, বন্যার সতর্কতা রাজধানী দিল্লিতে

0

ওয়েবডেস্ক: এক দিকে যখন সবে বন্যার কবল থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছে দক্ষিণ ভারত, ঠিক তখনই ভয়াবহ বন্যা এবং ধসের কবলে পড়েছে উত্তর ভারতের একটা বড়ো অংশ। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পঞ্জাব। এমনকি যমুনার জল ক্রমশ বাড়তে শুরু করায় দিল্লিতে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সব থেকে খারাপ অবস্থা হিমাচলের। বৃষ্টি সংক্রান্ত ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। শিমলা এবং সোলানে মৃতের সংখ্যা সব থেকে বেশি। অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধসের জেরে। নদীতে ভেসে গিয়েও মৃত্যু হয়েছে কয়েক জনের।

বিভিন্ন জায়গায় নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ধসের জেরে কালকা-শিমলার মধ্যে টয়ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্য দিকে মান্ডিতে বিপাশার জল রাস্তায় চলে আসায় চণ্ডীগড়-মানালি সড়কও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিলাসপুরেও সড়কে বন্যার জল চলে এসেছে। এখনও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকায় সোমবার হিমাচলের বেশ কয়েকটি জেলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

উত্তরাখণ্ডের অবস্থাও বেশ খারাপ। সেখানে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক জনের। উত্তরকাশী জেলার একটি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভেসে গিয়েছে একাধিক বাড়ি। ৩ জনের মৃত্যু এবং ২২ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

বন্যার কবলে পঞ্জাবও। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। রাজ্যের তিন জেলার ২০৯টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হরিয়ানাতেও বিভিন্ন জেলায়গায় নদীগুলির জলস্তরে বিপদসীমা অতিক্রম করছে। ফলে সেখানেও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন ঝাড়গ্রামে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদী

রাজধানী দিল্লিতেও বন্যার আশঙ্কা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যমুনার জলস্তর বিপদসীমা পেরোবে। ফলে শহরের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের এখনই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে দিল্লি প্রশাসন। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে গঙ্গা এবং যমুনা। ফলে সেখানেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তর ভারতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।

যদিও দক্ষিণ এবং পশ্চিম ভারতের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ার দিকে। বিভিন্ন জায়গায় জল নামতে শুরু করেছে। কেরলের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধস সরানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ে, বন্যার এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা তিনশো ছাড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here