indian industry

ওয়েবডেস্ক: চিনের পণ্য এত সস্তা কেন? বছর দশেক আগে থেকেই এমন প্রশ্ন নিয়ে বহু চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। কিন্তু এই দশ বছরে ভারতও থেমে থাকেনি। তবুও নিত্য ব্যবহৃত পণ্য উৎপাদন এবং তার দাম নিয়ন্ত্রণে এখনও পর্যন্ত চিনের পিছনে পড়ে রয়েছে। অনেকে তাই বলেন, ভারত নিজের উপর থেকে ভালো ক্রেতার তকমা মুছতে পারছে না।

চিনের দীর্ঘদিন আগে নেওয়া সরকারি উদ্যোগ, উন্নত মানের পারিকাঠামো, অফুরন্ত বিনিয়োগ, দক্ষ শ্রমিক, পণ্যকে বিশ্বজনীন করে তোলার মানসিকতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তো বহু আলোচনা চলেছে। চলবেও। তবুও একবার সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যেতে পারে এ ব্যাপারে ভারতের দুর্বলতার দিকগুলি। যা প্রকাশ করেছে এ দেশের একটি বিখ্যাত ম্যানেজমেন্ট সংস্থা।

বিদ্যুতের জোগান

শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতের জোগান নিয়ে অভিযোগ বরাবরের। দেশের শিল্পাঞ্চলগুলির বেশিরভাগ জায়গাতেই মূলত রাজ্য সরকারি নিগম বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। যেখানে দিনের ২৪ঘণ্টার মধ্যে আট ঘণ্টা সংযোগ থাকে। আর বাকি ১৬ঘণ্টা মেশিন ও মানবসম্পদের অপচয় ঘটতে থাকে।

বিদ্যুতের দাম

চাষবাসের জন্য সরকার বিদ্যুতে ভরতুকি দিলেও শিল্পক্ষেত্রে তার ছিটেফোঁটাও আদায় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না এ দেশে। উল্টে ব্যবসায়িক উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য ইউনিট প্রতি চড়া দাম দিতে হয় শিল্পপতিকে।

শ্রম বিনিয়োগ

এ দেশে শ্রমিকের অভাব নেই। কিন্তু বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী শ্রমিকের ন্যায্য পাওনাগন্ডা মেটাতে ব্যয় চিনের তুলনায় অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে আবার গোদের উপর বিষফোঁড়া রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনগুলির অতি-সক্রিয়তা। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পারিশ্রমিক দেওয়া আইনত বিষয়, কিন্তু সেই হাওয়ায় অযোগ্য শ্রমিককেও অধিক বেতনে রাখতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা অমূলক নয়।

পরিবহণ খরচ

অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কবলে এখনও পড়ে রয়েছে বহু শিল্পক্ষেত্র।তার উপর রয়েছে রাস্তাঘাটের ভয়ানক পরিস্থিতি। এ দিকে খানাখন্দ অন্য দিকে যানজট। এ ব্যাপারে কলকাতার কথাই ধরা যেতে পারে। বাঁকুড়া থেকে কোনো পণ্য রাজ্যের রাজধানীতে নিয়ে আসতে যে বিপুল পরিমাণ পরিবহণ খরচ পড়ে তা কিন্তু ওই পণ্যের মূল্যের সঙ্গেই সংযোজিত হয়।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা

শিল্প নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা সর্বজনবিদিত একটি বিষয়। এক দিকে ঢিলেমি অন্য দিকে প্রশাসনের হরেক রকমের বিধিনিষেধ। সরকার বিভিন্ন সময়ে যে ভাবে কর-সংক্রান্ত রদবদল ঘটায়, সেটাও কম ঝক্কির নয়।

বৃহৎ শিল্প

ছোটোখাটো শিল্প নিয়ে ততটা অ্যালার্জি না থাকলেও বৃহৎ ক্ষেত্রের কাছে তা বিশালাকার। সরকারি উদাসীনতা বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আসছে বহু দিন থেকেই। এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের প্রচ্ছন্ন মদত। বৃহৎ শিল্পের জন্য বৃহৎ জমির প্রয়োজন। সেই জমি জোগাড়েই হিসশিম খেতে হয়। আর জমি অধিগ্রহণের সময় আন্দোলন সংগঠিত হয়ে গেলে তো কথাই নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here