cyber crime

নয়াদিল্লি : আধার কার্ডের পর এ বার ভোটার কার্ড। মাত্র ৫০ পয়সার বিনিময়ে দেশবাসীর গোপন তথ্য বিকিয়ে যাচ্ছে। ভোটার কার্ডের হাত ধরেই অন্ধকার জগতের হাতে চলে যাচ্ছে আমজনতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য থেকে শুরু করে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় তথ্য।

সাইবার ক্রিমিন্যালদের এই সব অনৈতিক কাজকর্মের ওপর কড়া নজর রাখছে ইন্ডিয়ান সাইবার আর্মি। এই আর্মির চেয়ারম্যান কিশলয় চৌধুরী বলেন, কম্পিউটারের মাধ্যমে সামান্য কয়েকটা নির্দেশ, ব্যাস তার পরই খুলে যায় তথ্য ভাণ্ডার। মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার, ভোটার কার্ড এবং যাবতীয় সব কিছুই। বিশেষত ভোটার আই কার্ডের সঙ্গে যুক্ত যে কোনো বিষয়ই। আর এক সঙ্গে বহু মানুষের এই সব তথ্য হ্যাকাররা অন্ধকার জগতের কাছে তুলে দিচ্ছে মাত্র ৫০ পয়সা থেকে আড়াই টাকায়।

অন্য এক জন সাইবার বিশেষজ্ঞ বলেন, এমনিতেই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সাধারণ মানুষের নাম, বয়স, বাড়ির ঠিকানা, বাবার নাম এগুলি জানতে পারাই যায়। এখন আরও ব্যক্তিগত তথ্যের দিকে হাত বাড়াচ্ছে হ্যাকাররা।

বিশেষজ্ঞারা বলছেন, অ্যাপলিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস ব্যবহার করে সরকার নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু তা মোটেই ততটাও সুরক্ষা দিতে পারে না। তা ছাড়া এই সব তথ্য বেরিয়ে যাচ্ছে বেশির ভাগই বেসরকারি সংস্থার তথ্য ভাণ্ডার থেকে। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক, বিমা, টেলিকম সংস্থা ইত্যাদি থেকে। আজকাল একটা নতুন ব্যাপার হয়েছে। সবেতেই প্রমাণস্বরূপ ভোটার আর আধার কার্ড দাখিল করতে হয়। ফলে সব কিছুর সঙ্গেই সব কিছুর একটা সংযোগ থেকে যায়। তাই কান টানলে সহজেই মাথা এসে যায়। আর এই সহজলভ্যতাই এই সাইবার ক্রাইমকে আরও উৎসাহিত করছে।

এই সমস্ত তথ্য হাতে পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে মানুষকে ঠকানো অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। শুধু মাত্র ফোনে অদেখা এক জন মানুষের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্যের নির্ভুল বিবরণ অনায়াসেই মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হচ্ছে বিশ্বাস করতে। আর এই সুযোগেই সুযোগসন্ধানীরা সর্বস্বান্ত করছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন