cyclone ockhi

ওয়েবডেস্ক: দু’সপ্তাহ আগে থাইল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অক্ষি’র মৃত্যু হল গুজরাত উপকূল পৌঁছোনোর ঠিক আগেই, ভোটমুখো গুজরাতের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলকে স্বস্তি দিয়ে। কিন্তু এই যাত্রায় বেশ কিছু রেকর্ড সৃষ্টি করেছে সে।

প্রথমে দক্ষিণ তামিলনাড়ু, দক্ষিণ কেরল, লাক্ষাদ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর ছিল গোয়ার পালা। সেখানে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বিপুল ক্ষতি হয়েছে সমুদ্র পাড়ের ঝুপড়ি হোটেলগুলির, পর্যটনের ভাষায় যারা ‘শ্যাক’ হিসেবে পরিচিত। এর পর ছিল মুম্বইয়ের পালা। সেখানে ১৪২ বছরের ইতিহাসে ডিসেম্বরের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত দিয়ে সুরাত পৌঁছোনোর আগেই বিলীন হয়ে গেল সে। এখন সে মামুলি একটি নিম্নচাপ। এখনও সমুদ্রেই রয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে জন্ম নেয় একটি নিম্নচাপ। ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কা উপকূলের দিকে আসতে থাকে সে। কন্যাকুমারীর কাছে পৌঁছোনোর সময়েই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি নিয়ে নেই সেই নিম্নচাপ, নাম হয় ‘অক্ষি’। দক্ষিণ আরব সাগরের তাপমাত্রা ‘অক্ষি’কে আরও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ক্রমশ উত্তর-পশ্চিমে যেতে যেতে লাক্ষাদ্বীপে আঘাত হেনে সে ঘুরে যায় উত্তর-পূর্বে। অভিমুখ হয় গুজরাত উপকুল। কিন্তু গুজরাত উপকূলের কাছে সে যত এগিয়েছে তত ঠান্ডা হয়েছে আরব সাগর। তাই নিজের শক্তি বাড়ানোর ক্ষমতা হ্রাস পায় তার। ৪০০০ নটিক্যাল মাইলের যাত্রা অতিক্রম করা ‘অক্ষি’, উত্তর ভারত মহাসাগরের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম ঘূর্ণিঝড় বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর।

‘অক্ষি’র প্রভাবে ১৪২ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে মুম্বই। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের রাজধানীতে গড় বৃষ্টির পরিমাণ ৭০ মিমি। মঙ্গলবারের আগে পর্যন্ত মুম্বইয়ের ইতিহাসে ডিসেম্বরের সর্বাধিক বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। সে বার বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৩১ মিমি। গত দশ বছরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছিল ২০১৪ সালের একটি দিনে। আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “মুম্বইয়ে ডিসেম্বরে বৃষ্টি হয় না। কিন্তু ‘অক্ষি’র জন্য এ বার এতটা বৃষ্টি হল।”

শুধু বৃষ্টিই নয়। ‘অক্ষি’র প্রভাবে নকল শীত অনুভুত হয়েছে শহরে। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ২৩.৩ ডিগ্রি, স্বাভাবিকের থেকে পাক্কা দশ ডিগ্রি কম। মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে বলে জানান ওই আধিকারিক। তবে ‘অক্ষি’ ক্রমশ দুর্বল হতে থাকায় বুধবার থেকেই আবহাওয়ার উন্নতি করবে বলে মনে করেন তিনি।

এ দিকে ‘অক্ষি’র প্রভাবে তামিলনাড়ু এবং কেরলে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাল বিদেশমন্ত্রক। আহতের সংখ্যা ১৬৭। ঘূর্ণিঝড়ে কেরলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৩০০ এবং তামিলনাড়ুতে ২৮০০। এখনও অনেক মৎস্যজীবীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের উদ্ধার করার জন্য সব রকম চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here