করোনায় মৃত্যু ছেলের, আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন দম্পতি!

suicide ncrb
সিঁড়ির রেলিং থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ। প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: ২৭ বছরের ছেলে একটি করোনাভাইরাস (Coronavirus) কোয়রান্টিন সেন্টারে প্রথম সারির কর্মী ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত সেখান থেকেই করোনা সংক্রামিত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এর পর ছেলে হারানোর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন বৃদ্ধ বাবা-মা।

ঘটনাটি ওড়িশার গঞ্জাম (Ganjam, Odisha) জেলার। আত্মহত্যাকারী দম্পতির নাম রাজকিশোর সতপথী এবং তাঁর স্ত্রী সুলোচনা। গঞ্জাম জেলার কবিসূর্যনগর থানার অন্তর্গত নারায়ণপুর সাসন গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা।

ঘটনায় প্রকাশ, তাঁদের ছেলে সীমাঞ্চল স্থানীয় এ পঙ্কলাবাড়ি গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করেন। গত মে মাস থেকে কোয়রান্টিন সেন্টারে প্রথমসারির কর্মী হিসাবে কাজ করছিলেন। সেখানেই সংক্রামিত হন।

তাঁর জ্বর দেখা দেওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় গত ১ জুলাই। ওই দিনই তাঁর নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ (Covid-19) পজিটিভ রিপোর্ট ধরা পড়ে।

পর দিন সকালেই মৃত্যু হয় সীমাঞ্চলের। ছেলের এই আকস্মিক মৃত্যুর আঘাত সহ্য করতে পারেননি দম্পতি। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন দম্পতি।

পুলিশ এসে বাড়ির কাছে একটি গাছ থেকে রাজকিশোরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। নিজের ঘরের ভিতরেই পাওয়া যায় তাঁর স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস লকডাউনের জেরে সংকটে পড়ে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা দেখা গিয়েছে দেশে। এমনকী, করোনা নুমনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই হাসপাতালের আট তলার ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন দিল্লির এক যুবক। কিন্তু ছেলেকে করোনায় হারিয়ে এই প্রথম কোনো দম্পতি একই সঙ্গে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন