বৈশালি(বিহার): বয়স হয়ে গেছে। আর দুধ দেয় না। এমনই একটি গরুকে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে বেঁধে রাখলেন লালুপ্রসাদের দলের (রাষ্ট্রীয় জনতা দল) সদস্যরা। আর তাতেই ‘আতঙ্কিত’ হয়ে মামলা ঠুকে দিলেন ওই বিজেপি নেতা। বিহারের বৈশালী জেলার বিষ্ণুপুর আরারা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার রাতে।

বৃহস্পতিবার এক দলীয় সভায় লালুপ্রসাদ যাদব বলেছিলেন, যে সব গরুর বয়স হয়েছে, আর দুধ দিতে পারে না, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের। যদি তাঁরা সেই দায়িত্ব না নেন, তা হলে তাঁদের বাধ্য করার পরামর্শ দিয়েছিলেন দলীয় কর্মীদের। সেই কথা অনুযায়ী আরজেডি-র যুব সহ-সভানেত্রী বিদ্যাকুমারী রাই, তাঁর স্বামী দেবেন্দ্র রাই দলবল নিয়ে শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ বৈশালী জেলার বিজেপি নেতা চন্দ্রেশ্বরকুমার ভারতীর বাড়ির সামনে গরুটিকে বেঁধে রেখে আসেন। গরুটি স্থানীয় এক গ্রামবাসীর। দেবেন্দ্রর কথায়, “আমি লালুপ্রসাদ যাদবের অন্ধ ভক্ত। আমি তাঁর কথা অনুযায়ী কাজ করেছি মাত্র”।

অন্য দিকে চন্দ্রেশ্বরের দাবি, আরজেডি কর্মীরা তাঁকে গালাগালি করেন, তিনি যাতে গরুটিকে ছেড়ে না দেন বা কাউকে বিক্রি না করেন, সে জন্য তাঁকে হুমকিও দেন। এমনকি তাঁর কাছে ২০০০ টাকা জোর করে নিয়েও যান তাঁরা। “এতে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই, পরদিন সকালে স্থানীয় আদালতে মামলা করে দিই”, বলেন চন্দ্রেশ্বর।

বৃহস্পতিবার দলীয় সভায় লালু বলেছিলেন, “আপনাদের গরুর যদি বয়স হয়ে যায়, সে যদি দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয় কিংবা রাস্তাঘাটে কোনো মালিকানাহীন গরুকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন, তা হলে ওই গরুগুলিকে বিজেপ ও আরএসএস নেতাদের বাড়ির সামনে বেঁধে রেখে আসুন। তার পর ওদের প্রতিক্রিয়া দেখুন এবং ওই গরুগুলিকে নিয়ে ওরা কী করছে, সে দিকে নজর রাখুন। এ রকম করলে, ওরা আপনাদের মারধরও করতে পারে কিন্তু তাতে ভয় পাবেন না। গরুগুলিকে ওদের দরজায় বেঁধে রেখে আসবেন”।

এর মধ্যে বিহার বিজেপি-র সভাপতি নিত্যানন্দ রাই মন্তব্য করেছেন, যারা তাঁদের বৃদ্ধা গরুটিকে ত্যাগ করতে চান, তাঁরা নিত্যানন্দর কাছে আবেদন করতে পারেন। তবে তার জন্য অর্থ দাবি করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে তিনি সেই গরুগুলিকে পার্টি সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেবেন।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here