world toilet day

ওয়েবডেস্ক: দরজা বন্ধ করলে অসুখও বন্ধ! তেমনটাই আকছার জানা যাচ্ছে টিভির পর্দায় চোখ রাখলে। স্বচ্ছ ভারতের নির্মাণে যাতে কমতি না থাকে, সেজন্য সরকারের তরফে বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি- কোনোটারই কমতি নেই। কিন্তু তার পর? এত উদ্যোগ শেষে, শৌচালয় বানানোর সরকারি নানা পরিকল্পনা এবং অনুদানের পরে ভারতের চেহারাটা ঠিক কীরকম?

আজ বিশ্ব শৌচালয় দিবসে সে কথাই জাহির করল স্টেট অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস টয়লেটস ২০১৭ রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে জানানো হয়েছে খোলাখুলি, সারা বিশ্বের মধ্যে ভারতেই মুক্ত স্থানে শৌচত্যাগকারী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- পাক্কা ৭৩২ মিলিয়ন! রিপোর্ট আরেকটু বিশদে গিয়ে বলেছে, এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৩৫৫ মিলিয়ন। উপায় না দেখে এই বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নারীরাও উণ্মুক্ত স্থানে শৌচত্যাগে বাধ্য হন।

অবশ্য স্টেট অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস টয়লেটস-এর এই রিপোর্টে ভারত সম্পর্কে শুধুই নেতিবাচক তথ্য পেশ করা হয়নি। সেখানে ভারতের প্রশংসাও করা হয়েছে অবস্থার উন্নতির জন্য উদ্যোগী হওয়ায়। রিপোর্ট বলছে, ভারত এই মুহূর্তে বিশ্বের প্রথম দশটি দেশের মধ্যে স্থান অধিকার করে নিয়েছে যেখানে উণ্মুক্ত স্থানে শৌচত্যাগকারী জনতার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। প্রকাশ্যে শৌচত্যাগ বন্ধে এবং মানুষের হাতের নাগালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচালয় নির্মাণে ভারতের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, অকুণ্ঠে স্বীকার করেছে রিপোর্টটি।

মোদি সরকারের পক্ষে এই খবর যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, তাতে আর সন্দেহ কী! তবে রিপোর্টের নেতিবাচক দিকটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টুইট অন্তত সে তথ্যই দিচ্ছে। বিশ্ব শৌচালয় দিবসে সারা দেশব্যাপী শৌচালয় নির্মাণের শপথে আমরা নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হলাম। যে সব সংস্থা এবং ব্যক্তিরা এই কাজে এগিয়ে এসেছেন, তাঁদের অজস্র ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা না থাকলে ভারত এত সহজে স্বচ্ছ হয়ে উঠতে পারত না, টুইটে লিখেছেন মোদি।