গোমূত্র থেকে মোলনুপিরাভিরের মধ্যেই টিকাকরণের বর্ষপূর্তি, কোভিডের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মোক্ষম অস্ত্র আসলে কোনটি

0

রবিবারই ভারতে করোনা টিকাকরণের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রায় দু’বছর আগে করোনা মহামারির শুরু থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কম চর্চা হয়নি। এত কিছুর মধ্যে কোভিডের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মোক্ষম অস্ত্র আসলে কোনটি?

1. প্রাথমিক শর্ত

করোনার আবির্ভাবের পর পরই তিনটি বিষয়ে সব থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যা এখনও সমান ভাবে কার্যকরী। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় মুখে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলা বা স্যানিটাইজেশনের উপর সমান ভাবে জোর দেওয়া হয় এখনও।

2. ওষুধ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি

এ দেশে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর গায়েত্রী মন্ত্রের জপ, গোমূত্র, গোবর, যোগা থেকে শুরু করে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, প্লাজমা থেরাপি, রেমডেসিভির, ডিআরডিও-র অ্যান্টি-কোভিড ওষুধ ২-ডিঅক্সি-ডি-গ্লুকোজ (২-ডিজি) এবং সাম্প্রতিক মোলনুপিরাভিরের মতো ওষুধ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কম চর্চা হয়নি।

3. গোবর এবং গোমূত্র

করোনা মোকাবিলায় গোবরের ব্যবহার নিয়ে আশ্চর্যজনক কিছু খবর শোনা গিয়েছিল ভারতে। কিছু মানুষের বিশ্বাস, সপ্তাহে এক বার গোবর এবং গোমূত্র মাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। এই অবৈজ্ঞানিক ধারণার বশবর্তী হয়ে কিছু মানুষ নিজেদের অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে তুলতে গোশালায় দৌড়ান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে সতর্ক করতে মাঠে নামেন চিকিৎসকেরা।

4. হোমিওপ্যাথির ব্যবহার

২০২০ সালের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় আয়ুষমন্ত্রকের জারি করা একটি পরামর্শে বলা হয়েছিল, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথিক এবং ইউনানি ওষুধ কার্যকর হতে পারে। আর্সেনিকাম অ্যালবাম ওষুধটি করোনাভাইরাসের সংক্রম প্রতিরোধ করতে সহায়ক।

5. করোনা রুখতে যোগ

সুস্থ থাকতে এবং শারীরিক ও মানসিক ভাবে ফিট থাকার জন্য যোগের প্রাচীন যোগাযোগ। কারও কারও মতে, শরীরের অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে করোনা রুখতে সহায়ক যোগব্যায়াম। গায়ত্রী মন্ত্রের জপ, ধর্মীয় স্তোত্র পাঠ এবং প্রাণায়াম অনুশীলনে বিশ্বাসী অনেকেই।

6. সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য অস্ত্র

করোনা মোকাবিলায় শিশুদের উপর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে ভারতেও

তবে এত কিছুর মধ্যে মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য অস্ত্র হিসাবে রয়ে গিয়েছে ভ্যাকসিন। ভারতে এখন কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন এবং স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হচ্ছে। কোভিড মোকাবিলায় টিকাকরণের উপরেই জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

7. একাধিক দফায় কর্মসূচি

গত বছরের ১৬ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল ভারতের বৃহত্তম টিকাকরণ কর্মসূচি। প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মী এবং সামনের সারির কর্মীরা টিকা পান। দ্বিতীয় দফায় ১ মার্চ থেকে ৬০-৪৫ বছর বয়সিদের জন্য। ১ মে থেকে ১৮ ঊর্ধ্ব এবং চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ১৫-১৭ বছর বয়সিদের টিকাকরণ।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল