শ্রীনগর: কাশ্মীরের সমাধান যদি কেউ করতে পারেন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কারণ তাঁর কাছে জনমত আছে। শনিবার এমনই বললেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। সেই সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকাকে সমূহ বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মোদীর প্রতি কাতর আবেদন করেন মেহবুবা।

শনিবার একটি ফ্লাইওভারের উদ্বোধনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মেহবুবা বলেন, বাজপেয়ী জমানার প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরবর্তী দশ বছরের ইউপিএ সরকার করতে পারেনি। এর ফলে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভই এখন বেরিয়ে আসছে।

বক্তৃতায় মেহবুবা বলেন, “আমি এটা জোর গলায় বলতে পারি, এবং তাঁর জন্য আমাকে সমালোচিতও হতে হবে, যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান একমাত্র নরেন্দ্র মোদীই করতে পারেন। কারণ তাঁর কাছে দেশের মানুষের রায় আছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সারা দেশে তা সমর্থন করবে।”

এর পাশাপাশি ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, মোদীর হঠাৎ পাকিস্তান ভ্রমণেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মেহবুবা। তিনি বলেন, এটা কোনো দুর্বলতার পরিচয় নয়, বরং শক্তির পরিচয়। এর পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের পদক্ষেপের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এর আগে একজন প্রধানমন্ত্রী দশ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, পাকিস্তান যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তিনি যাননি। দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতি ঘটানোর ইচ্ছে ছিল তাঁর, কিন্তু কোনো সাহস ছিল না। তিনি সাহস দেখালে কাশ্মীরের এই দুর্ভাগ্য হত না।”

২০০২-এ কাশ্মীরে ‘শান্তির অধ্যায়’ শুরু করার জন্য বাজপেয়ী এবং নিজের বাবা তথা রাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মুফতি মোহম্মদ সঈদের ভূমিকার প্রশংসা করেন মেহবুবা। তিনি বলেন, “বাজপেয়ীর সময় সংঘর্ষ বিরতি ছিল, লালকৃষ্ণ আডবাণী কাশ্মীরে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। দু’দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনে আরও অনেক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।”

মেহবুবার আক্ষেপ, “এর পর কেন্দ্রে এনডিএ জামানা শেষ হল এবং রাজ্যে মুফতি সঈদের জমানা।” পরবর্তী কালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার এবং রাজ্যে তাদের শরিক আসার পর এই শান্তি প্রক্রিয়া আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “তখন দুই সরকারই ভাবল, সব কিছুই শান্তিপূর্ণ হয়ে রয়েছে আর নতুন করে কিছু করার নেই। লাভা তখন থেকেই জ্বলা শুরু হচ্ছিল, ২০০৮-এ তা প্রথম বার ফেটে পড়ল। সেই লাভা এখন রাস্তায় চলে এসেছে।”

মেহবুবা জানান কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে তাঁর সরকার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here