sc

নয়াদিল্লি : নতুন দায়িত্বে আসার সঙ্গে সঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হল প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে। প্রমাণ পেলেন  সেনাবাহিনীর ভেতরের নানা ক্ষোভ ক্রমশ পুঞ্জীভূত হচ্ছে।

এ বার এই ক্ষোভ গড়াচ্ছে আদালতের দরজায়। ক্ষোভ এক-আধ জনের অভিযোগ নয়। এক সঙ্গে ১০০ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আর মেজর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সার্ভিস কোর (পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত) আধিকারিকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবিচার করা হচ্ছে। তাঁদের মনোবল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া তাঁদের নানা অভিযানে পাঠানো হয়। কিন্তু তার পরিবর্তে কোনো সুবিধেই দেওয়া হয় না। সেনাবাহিনীর বাকি সব ক’টি শাখাকেও কমব্যাট আর্মস কোরের মতো মর্যাদা আর সুবিধে দেওয়া না হলে সরকার বা সেনাবাহিনীর কেউই যেন জরুরি অবস্থা ছাড়া নিয়মিত ভাবে সার্ভিস কোরের অফিসারদের যুদ্ধক্ষেত্র বা উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় না পাঠায়, সে ব্যাপারে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অভিযোগকারী সেনা আধিকারিকদের দাবি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক আইনটির ফলেই তাঁদের প্রতি প্রবল অবিচার করা হচ্ছে।

তাঁদের এই আবেদনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লেফটনেন্ট কর্নেল পি কে চৌধুরি। এই আবেদনে তাঁরা বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সার্ভিস কোরের অফিসাররা কমব্যাট অফিসারদের মতোই একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তা হলে তাঁদের কেন বঞ্চিত করা হবে? যে সুবিধে কমব্যাট অফিসাররা পান তা কেন তাঁদের দেওয়া হবে না?

ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে এই বৈষম্যের ঘটনা অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। অনেকেই ১০-১৫ বছর ধরে নিষ্ঠা ভরে কাজ করে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু উপযুক্ত সম্মান পাননি।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, সার্ভিস কোরদের করা আর একটা মামলার নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট। সেই বারের অভিযোগ ছিল কর্ণেল পোস্টের জন্য খুব অল্প সংখ্যক পদোন্নতির সুযোগ থাকে।

উল্লেখ্য অনেক সার্ভিস ক্যাডারই যুদ্ধ ক্ষেত্র বা উত্তেজনা প্রবণ এলাকাগুলোয় যেতে অস্বীকার করেছে। ২ লক্ষ ৬০ হাজার কর্মীর মধ্যে কর্মকর্তার সংখ্যা ১০ হাজার। এই আর্মি সার্ভিস কোর হল ভারতীয় সেনারই একটা অঙ্গ। এঁরা নানান প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের জন্য নিযুক্ত।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মোট ১১টা বিভাগ আছে। এই সব ক’টি বিভাগের কর্মীই সেনার সঙ্গে যুক্ত হলেও সকলেই সম্মুখ সমরে যান না। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধ করা তাঁদের কাজ নয়।

প্রসঙ্গত, এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় আর্মি সার্ভিস কোর মেজর সতীশ দাহিয়া কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যাওয়ার পর থেকেই। এ সময় তিনি ৩০ রাষ্ট্রীয় রাইফেলে ছিলেন ‘নন কমব্যাট’ সেনা হিসেবে। তিনি সূর্যচক্র পুরস্কার পান। এটা হল তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার।

ভয়ঙ্কর সত্য হল, পরিসনংখ্যান বলছে, ‘আর্মি সার্ভিস কোর’ আধিকারিকদের মৃত্যুর হার কার্গিল যুদ্ধের নিরীখে প্রতি হাজারে ১.৭৭%। সংখ্যাটা ‘কমব্যাট’ সেনার তুলনায় অনেকটাই বেশি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here