দিল্লি : দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার অন্যান্য দেশের থেকে দ্বিগুণ হলেও যুবসম্প্রদায়ের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার হার খুবই কম। ওইসিডি অর্থাৎ অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের করা একটি সমীক্ষা বলছে ভারতের যুবক-যুবতীদের ৩০%-এর মধ্যে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নেই বললেই চলে। ওইসিডি হল হাঙ্গেরি, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড-সহ আরও ৩২টি দেশের সম্মিলিত একটি গোষ্ঠী। 

২০১৬-১৭ আর্থিক বর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭%। যা অন্য দেশগুলির থেকে অনেক বেশি। কিন্তু চাকরি বা কাজের সুযোগ তৈরির হার এক্কেবারেই খারাপ। যেখানে যুবক-যুবতীর সংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা নেই বললেই চলে। এখানে ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে ৩০%-ই কোনো রকম কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা শিক্ষা বা কোনো প্রশিক্ষণের সঙ্গেও জড়িত নয়। অন্য দেশগুলিতে এই হার খুবই ভালো। 

ওইসিডি একটি তালিকা প্রকাশ করে। তাতে দেখানো হয়, অন্য দেশগুলির থেকে দ্বিগুণ খারাপ অবস্থা ভারতের। চিনের বেকারত্বের প্রায় তিনগুণ হল ভারতের যুব-সম্প্রদায়ের  কর্মহীনতার পরিমাণ।

                                       

                                          ওইসিডি-র করা ২০১৭-র সমীক্ষা 

graph

 

তালিকা বলছে ভারতে এই হার ৩০.৮৩ %। যেখানে চিনের হার ১১.২২%, ইন্দোনেশিয়ায় ২৩.২৪%। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এই হার ৩৬.৬৫%। 

ওইসিডি ইন্ডিয়ান ইকোনমি সার্ভে ২০১৭-এ বলেছে, ভারতের হাল এতটা খারাপ হওয়ার পেছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ। তার মধ্যে রয়েছে দেশের জটিল ও কঠিন শ্রম আইন। অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের শ্রমিক সুরক্ষা আইন অনেক বেশি সংরক্ষিত। শ্রম আইন এড়িয়ে চলার জন্য এখানে চুক্তিভিত্তিক বা স্বল্প সময়ের শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে। তা ছাড়াও আয়কর আইনের জটিলতাও এই সমস্যার অন্যতম কারণ বলা যেতে পারে। সংস্থার মতে, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এই ব্যাপারে শ্রম আইন ও রাজ্য সরকারগুলিকেও সহযোগিতা করতে হবে। তা ছাড়াও অল্প সময়ের পার্থক্যে দেশের শ্রমিক সংখ্যা নির্ধারণের জন্যও ব্যবস্থা করতে হবে বলে মনে করছে সংস্থা। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানোন্নতির পাশাপাশি প্রতি বছর কাজের কত সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে তারও হিসেব রাখতে হবে।  

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন