নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে গত পাঁচ বছরে নষ্ট হয়েছে ২৮ লক্ষ ইউনিট রক্ত। ভয়াবহ পরিসংখ্যানটি দিয়েছে ন্যাশনাল এইড্‌স কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (ন্যাকো)। পাড়ায়, কলেজে, ক্লাবে প্রতি মরশুমে কারণে-অকারণে রক্ত দিয়ে যাঁরা ভাবেন বেশ একটা সমাজকল্যাণমূলক কাজ হল, তাঁরা এ বার সাবধান হোন। আপনার দেওয়া রক্ত, কতটা সমাজের কাজে লাগছে, আর কতটা অপচয় হচ্ছে, সে ব্যাপারে সচেতন হোন।

চেতন কোঠারি নামের এক ব্যক্তির তথ্যের অধিকার আইনে করা আবেদনের ভিত্তিতে সারা দেশের শেষ পাঁচ বছরে নষ্ট হওয়া রক্তের হিসেব দিয়েছে ন্যাকো। লিটারের হিসেবে নষ্ট হওয়া রক্তের পরিমাণ প্রায় ৬ লক্ষ লিটার। সম পরিমাণ জলে ৫৩টি ট্যাঙ্ক ভর্তি হয়। অথচ ভারতে প্রয়োজনের তুলনায় বছরপ্রতি গড়ে ৩০ লক্ষ ইউনিট রক্তের ঘাটতি হয়। প্লাজমা, প্লেটলেট-সহ রক্তের অভাবে আমাদের দেশে আজও প্রসূতি মা-এর প্রাণ সংশয় পর্যন্ত ঘটে। অতিরিক্ত রক্তক্ষয়ের ফলে সময়মতো রক্ত না পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।

সারা দেশে রক্ত অপচয়ের ছবিটা কম বেশি এক রকম হলেও মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য রয়েছে রক্ত নষ্টের তালিকার একেবারে ওপর দিকে। রক্তের এই অপচয়ের জন্য ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেই দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। ভারতীয় রেডক্রস সোসাইটির ডাঃ জারিন ভারুচা এই প্রসঙ্গে জানালেন, “এক একটা ব্লাড ব্যাঙ্কে সাধারণত ৫০০ ইউনিট রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। সেখানে কোনো কোনো রক্তদান শিবিরে একবারে ১০০০ থেকে ৩০০০ হাজার ইউনিট পর্যন্ত রক্ত জোগাড় হয়। এত রক্ত সংরক্ষণ করা কোনো একটা ব্লাড ব্যাঙ্কের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তার চেয়ে, যাঁরা রক্ত দিতে ইচ্ছুক, তাঁরা প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাঙ্কে এসে রক্ত দিলেই সমস্যার কিছুটা সমাধান হয়।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here