সিবিআইয়ের সঙ্গে দু’দিন লুকোচুরির পর গ্রেফতার চিদাম্বরম

0
ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: দু’দিন ধরে সিবিআইয়ের সঙ্গে লুকোচুরির পর গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে। বুধবার রাতে দিল্লির বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআইয়ের এক বিশেষ দল। তার আগে অবশ্য বিস্তর নাটক হয়েছে।

প্রায় ২৭ ঘণ্টা বেপাত্তা থাকার পর এ দিন সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে বসে সাংবাদিক বৈঠক করেন। বলেন, “আমি কোনো দোষ করিনি”।

Shyamsundar

চিদাম্বরম বলেন, “সুবিচার পেতে দৌড়ে বেড়াচ্ছি। সুপ্রিম কোর্টে আমার আস্থা রয়েছে। আমি আইএনএক্স মামলায় অভিযুক্ত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চলছে। আমার পরিবারের কারো নাম চার্জশিটে নেই।” এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করার পরই কংগ্রেস দফতর থেকে তিনি বেরিয়ে যান।

সূত্রের খবর, চিদাম্বরমের খোঁজে কংগ্রেসে অফিসে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল সিবিআই। এমনকি সিবিআই সেই পরিকল্পনামতো কংগ্রেস কার্যালয়ে হানা দেয়, কিন্তু তার আগেই সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বয়ান পড়েন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দাবি করেন, “সুপ্রিম কোর্ট আমাকে নিরাপত্তা দিক”। এই সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেই তিনি কংগ্রেস অফিস ত্যাগ করেন। তার পরে সেখানে পৌঁছায় সিবিআই। চিদাম্বরমকে না পেয়ে তদন্তকারীরা ফিরে যান।

এর পরে চিদাম্বরমের পেছন পেছন তাঁর বাড়ি গিয়ে হাজির হয় সিবিআই। পৌঁছে যায় ইডির তদন্তকারীরাও। চিদাম্বরমের বাড়ির গেটের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তদন্তকারীরা। তার পর গেট টপকেই তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণ পর চিদাম্বরমকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। কংগ্রেসকর্মীদের প্রবল বিক্ষোভের মধ্যে সিবিআইয়ের গাড়িতে বেরিয়ে যান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

এ দিন সুপ্রিম কোর্টে কোনো ভাবেই স্বস্তি মেলেনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরমের। তাঁর আগাম জামিনের আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে বুধবার শুনানি হল না আদালতে। পরবর্তী শুনানি হবে শুক্রবার।  ফলে গ্রেফতারির খাঁড়া ঝুলেই ছিল চিদম্বরমের উপর। অন্য দিকে চিদাম্বরমের সম্ভাব্য গ্রেফতারি প্রসঙ্গে প্রিয়ঙ্কার পর এ বার সরব হন রাহুল গান্ধীও।

আগাম জামিনের আর্জি জানিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চিদম্বরমের আইনজীবীরা। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান তাঁরা। কিন্তু বিচারপতি এনভি রমানার এজলাসে মামলাটি উঠলে তিনি সেটিকে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের এজলাসে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়ে দেন।

এ দিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে অযোধ্যা মামলা-সহ একাধিক মামলার শুনানি ছিল। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, এই সব মামলার শুনানি শেষে চিদম্বরমের মামলাটির শুনানি হবে। কিন্তু সেটি এ দিন তো হয়েইনি, শুক্রবারের আগে শুনানি হবে না বলেও সাফ জানানো হয়েছে। ফলে চিদাম্বরমের গ্রেফতারিতে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে তিনি এখন বেপাত্তা হলেও ইডি লুকআউট নোটিশ জারি করায় দেশের বাইরেও যেতে পারবেন না।

আরও পড়ুন দিঘায় জনসংযোগে গিয়ে চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী

এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির এই তৎপরতা নিয়ে সরব হলেন রাহুল গান্ধী। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ইডি, সিবিআই এবং একশ্রেণির মেরুদণ্ডহীন সংবাদ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে চিদম্বরমের চরিত্রহননের চেষ্টা করেছে মোদী সরকার। ক্ষমতার এই নির্লজ্জ অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা করি।’

এ দিন সকালে একই ভাবেই চিদাম্বরমের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও। ‘নির্লজ্জ ভাবে চিদম্বরমকে অপদস্থ করার চেষ্টা চলছে’ বলে টুইটারে তিনি অভিযোগ করেন। রাহুল-প্রিয়ঙ্কার পাশাপাশি অধিকাংশ কংগ্রেস নেতাই পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন