alyque padamsee

ওয়েবডেস্ক: শনিবার মুম্বইয়ে প্রয়াত হলে পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যালেক পদমসি। তিনি ১৯৮২ সালে ‘গান্ধী’ চলচ্চিত্রে মুহম্মদ আলি জিন্নার চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্ববন্দিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন একজন সুপরিচিত থিয়েটার ব্যক্তিত্ব। সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিনীত থিয়েটার ‘ব্রোকেন ইমেজেস’ আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছিল। তবে ভারতের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে তাঁর হাতযশ কোনো দিনই ভোলার নয়।

একাধিক বহুজাতিক সংস্থার হয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরির কাজ করেছিলেন অ্যালেক। যেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘লিরিল’ সাবানের বিজ্ঞাপন। যেখানে সে সময় স্বল্পপরিচিত প্রীতি জিন্টাকে বিকিনি পরিয়ে ঝরনার চলে স্নান করিয়ে তিনি ভিজিয়ে দিয়েছিলেন গোটা ভারতের মন।

যে কোনো অঙ্গনেই সমান ভাবে বিচরণ করতেন অ্যালেন। ‘আমুল’ তখন জোর দিচ্ছে সর্বভারতীয় বিপণনে। ওই সংস্থাও দ্বারস্থ হল অ্যালেকের। বাজারে চলে এল নতুন একটা শব্দবন্ধ ‘আটারলি বাটারলি ডিলিশাস আমুল’। তারাই আবার পরে বাজারে নিয়ে এসেছে বাটার। ঘি-ডালডার যুগে অ্যালেকের ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্ভবত কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণেই আবিষ্কার করে ফেলল এমন একটা শব্দবন্ধ। সেটা বাটার হোক বা দুধ- ক্রেতার মনের ভিতর সেঁধিয়ে গিয়ে কী ভাবে নতুন পণ্যকে চালান করে দিতে হয়, তা ছিল তাঁর হাতের তালুর মতোই চেনা।

সেই মোটর সাইকেলের বিজ্ঞাপনটার কথাও না বললে নয়। টেভি খুললেই একটা দেশাত্মবোধক সুরে ‘হামারা বাজাজ’। স্কুটারের গতির সঙ্গেই এগিয়েছে সেই শব্দের জাদু। আর এগিয়ে গিয়েছে বাজাজ মোটর্সের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি। এর স্রষ্টাও তিনিই।

ওযুধের দোকান থেকে পানবিড়ির দোকানের শো-কেসে শোভা পাওয়া ‘কামসূত্র’-এর প্যাকেটও বহন করবে অ্যালেকের স্মৃতি। তাঁর হাত দিয়েই উঠে এসেছিল সেই নিবিড় ঘনিষ্ট যুগল। যা কিনা এখনও শোভা পায় ওই জন্মনিরোধক পণ্যের প্যাকেটে।

বিজ্ঞাপন-বিজ্ঞান নিয়ে লিখে ফেলেছিলেন তাঁর আস্ত একটি বই। সেই ‘আ ডাবল লাইফ’ আন্তর্জাতিক বিশ্বে এখন রীতিমতো সমাদৃত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here