aadhaar

ওয়েবডেস্ক: হ্যাঁ! এটা সত্যি যে যৌনকর্মীর পরিষেবা চাইলে দাখিল করতে হবে আধার কার্ড! পাশাপাশি এটাও বলে রাখা ভালো- সারা দেশে এমন পরিস্থিতি এখনও জারি হয়নি।

তাহলে ব্যাপারটা কী?

খবর বলছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোয়ায়। পর্যটকরা ক্ষণিকের সুখের জন্য ঘরে যৌনকর্মী ডাকতে চেয়ে দালালের দ্বারস্থ হলে তাঁদের কাছে চাওয়া হচ্ছে আধার কার্ডের যাবতীয় তথ্য। এখানেই শেষ নয়। প্রয়োজন হচ্ছে হোটেল এবং কোন ঘরে তাঁরা রয়েছেন, তার ছবি বা ভিডিও। আর সেই সব করতে গিয়েই পুলিশের হাতে পড়েছেন দিল্লিবাসী এক দল যুবক।

গোয়া পুলিশ জানিয়েছে, এক বন্ধুর ব্যাচেলর পার্টির উদযাপনে গোয়ায় এসেছিলেন এই যুবকেরা। দিল্লি থেকে তাঁরা সঙ্গে করে এনেছিলেন এক দালালের নম্বর। কথা ছিল, তাকে ফোন করলেই সুন্দরী তরুণীরা হাজির হবে হোটেলের ঘরে। সেই মতো হোটেলে পৌঁছে, ঘরে ঢুকতে যেটুকু দেরি! তার পরেই দলের এক যুবক ফোন করেন ওই দালালকে।

আশ্চর্যের ব্যাপার, ওই দালাল যৌনকর্মীদের পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোন কেটে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে সে ওই যুবকের নম্বরটি যাচাই করে দেখে নেয় যে ওটা সত্যিই দিল্লির নম্বর কি না! তার পর সে ফোন করে ওই যুবককে। চেয়ে পাঠায় তাঁদের আধার কার্ডের তথ্য, হোটেলের ঘরের নম্বর এবং হোটেলের চাবির ছবি। এগুলো সে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত পাঠাতে বলে তাঁদের।

এখান থেকেই সন্দেহ দেখা দেয় ওই যুবকদের মনে। তাঁরা ভয় পান পুলিশি ঝামেলার! ভেবে নেন, এই হোটেল হয়তো নিরাপদ নয়। এবং সেই মর্মে খোঁজখবর করতে গিয়েই ঘটিয়ে ফেলেন প্রমাদ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হওয়ায় হোটেল থেকে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এর পর হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই দালাল!

পুলিশ জানিয়েছে, খদ্দেরদের কাছ থেকে আধার কার্ডের তথ্য চাওয়া, হোটেল-ঘরের নম্বর এবং চাবির ছবি-সহ প্রমাণ চাওয়া- এ সব কিছুই আসলে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য। এটা যাচাই করে নেওয়া যে খদ্দেরের ছদ্মবেশে পুলিশই ফোন করছে কি না! কিন্তু এত সতর্কতার পরেও এই ঘটনায় ফল হল উলটো!

“দালালচক্র নানা ভাবে হালফিলে বিভ্রান্ত করছে গোয়ার পর্যটকদের। ধরুন, কোনো দালাল কোনো পর্যটককে এক যৌনকর্মীর এক ঝলক দেখাল! সে হয়তো হোটেলের কোনো ঘরের সংলগ্ন বারান্দা থেকে হাত নাড়ল খদ্দেরের উদ্দেশে। এর পর ওই দালাল টাকা নিয়ে খদ্দেরকে ঘরের নম্বর দিয়ে দেয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘরে কেউ থাকে না বা থাকলেও দরজা খোলে না। অনেক সময় পাশের ঘর থেকে দালালেরই সাজানো লোকজন বেরিয়ে এসে হইহল্লা করে। তখন ওই খদ্দেরের পিছ-পা হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না”, জানিয়েছে গোয়া পুলিশ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here