পাকিস্তান তো নিজেদের দেশটাই চালাতে পারে না, ‘হাওডি, মোদী’ অনুষ্ঠানে বললেন মোদী

0
Howdy modi event
হাওডি মোদী অনুষ্ঠানে। ছবি সৌজন্যে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

হিউস্টন: সন্ত্রাসের প্রতি দরদী পাকিস্তান। তারা এমনকি নিজের দেশটাই চালাতে পারে না – এখানকার এনআরজি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘হাওডি, মোদী’ অনুষ্ঠানে এ ভাবেই পাকিস্তানকে আক্রমণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সব রকম দৃঢ়তা নিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেন, “র‍্যাডিক্যাল ইসলামি সন্ত্রাসবাদ থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে আমরা দুই দেশই বদ্ধপরিকর।”

হিউস্টনের ‘হাওডি, মোদী’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য শনিবার রাতে এখানে এসে পৌঁছোন। রব ইবার সকাল থেকেই তাঁর নানা কর্মসূচি ছিল। তার পর তিনি আসেন এনআরজি স্টেডিয়ামে, যেখানে ৫০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য,

আরও পড়ুন: হিউস্টনে গিয়ে কাশ্মীর নিয়ে স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রোড করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আইন গত ৭০ বছর ধরে দেশকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছিল, তাকে ভারত বিদায় জানিয়েছে। তিনি বলেন, “৩০ অনুচ্ছেদ জম্মু-কাশ্মীর ও লাডাককে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি থেকে দূরে রেখেছিল। ৩৭০ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ও লাডাকের নারী, শিশু এবং দলিত-সহ সবাইকে সব রকম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।” মোদী মনে করিয়ে দেন, ভারতীয় সংসদের দু’টি কক্ষেই ৩৭০ রোড নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উচ্চ কক্ষে শাসকদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও, এ সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়।

মোদী বলেন, “ভারতের সব চেয়ে বড়ো প্রতিজ্ঞা হল নতুন ভারত। নতুন ভারতে ভারতীয়রা একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে না। তারা নিজেদেরই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, নিজেদেরই পরিবর্তন করছে। তিনি বলেন, এখনকার বিশ্বে ডেটা হল নতুন তেল আর সোনা। এই ডেটা ভারতে সব চেয়ে সস্তা।  এক জিবি ডেটার দাম ২৫ থেকে ৩০ সেন্ট, এক ডলারের চার ভাগের এক ভাগ।    

মোদীর ভাষণের আগে উপস্থিত ৫০ হাজার দর্শকের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি যদি পরবর্তী নির্বাচনে জিতে ফিরে আসেন তা হলে ভারত তাঁর মধ্যে এক জন প্রকৃত বন্ধুকে পাবে। ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। যে হেতু দু’ দেশের সংবিধানই একই শব্দবন্ধ দিয়ে শুরু, সেই হেতু দু’টি দেশেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা দু’টি দেশেই জোরদার।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রারম্ভিক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। মোদী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বত্রই একটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যান। বহু বার দু’ জনের মধ্যে দেখা হয়েছে। মিঃ ট্রাম্প কিন্তু সেই একই রকম উষ্ণ, বন্ধু, প্রাণশক্তিতে ভরপুর রয়েছেন। তাঁর কাছে সব সময়েই সহজে পৌঁছোনো যায়।

এনআরজি স্টেডিয়ামে ‘হাওডি, মোদী’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানান মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদল। নরেন্দ্র মোদীকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতা বলে আখ্যা দিয়ে তাঁকে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান টেক্সাসের সেনেটর টেড ক্রুজ এবং জন করনিন। ক্রুজ বলেন, ভারতের বন্ধু হতে পেরে আমেরিকা গর্বিত। মার্কিন সেনেটের হাউস মেজোরিটি লিডার ডেমোক্র্যাটিক দলের স্টেনি হয়ার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যে আধুনিক ভারতকে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাতে আমরা অনুপ্রাণিত।

এর পরেই স্টেডিয়ামে হাজির হন মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।     

‘হাওডি, মোদী’ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে টেক্সাসের সেনেটর জন করনিন বলেন, তাঁর বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু ঘোষণা করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে এখানে কী কথা হবে তা নির্দিষ্ট করে আমি জানি না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি কিছু ঘোষণা করেন, আমি অবাক হব না। আশা করি, বাণিজ্য নিয়ে যে মতবিরোধ দু’ দেশের মধ্যে আছে, তা আমরা দূর করতে পারব।”   

অনুষ্ঠানের বেশ কিছু আগে এখানকার এনআরজি স্টেডিয়ামের ফটক খুলে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্য অতিথিবর্গ আসা পর্যন্ত নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান চলতে থাকে স্টেডিয়ামে। মোদীর জন্য অপেক্ষারত দর্শকদের সামনে ভাংরা, ভরতনাট্যম নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি ছিল উচ্চাঙ্গ সংগীতও।  

‘হাওডি, মোদী’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টেক্সাসের হিউস্টনে পৌঁছোন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ‘ট্রেড অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স’-এর ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার ওলসন এবং অন্যান্য আধিকারিক। ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের ‘শক্তি-রাজধানী’ হিউস্টনে নেমেই প্রধানমন্ত্রী ‘হাওডি হিউস্টন’ বলে সম্বোধন করে টুইট করেন। তিনি তাঁর টুইটবার্তায় বলেন, এই অগ্রসরমান ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর শহরে আজ ও আগামীকাল নানা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছি।” প্রধানমন্ত্রীর আগমনবার্তা পিএমও থেকেও টুইট করে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ইসলামিক দেশগুলির থেকেও ভারতীয় মুসলিমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান: মার্ক টুলি

এখানে এসে প্রথমেই এনার্জি সেক্টরের সিইও-দের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। ওই বৈঠকে বিশ্বের ১৭টি এনার্জি কোম্পানির কর্তারা যোগ দেন। ১৫০টি দেশে এই কোম্পানিগুলির কাজ কারবার রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানিরই ভারতের সঙ্গে কিছু না কিছু সম্পর্ক রয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে। এই কোম্পানিগুলির মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন (১-এর পরে ১২টা শূন্য) মার্কিন ডলার।

এর পরে হিউস্টনের শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারত সরকারের কিছু সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তাঁরা একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। তাতে তাঁরা ১৯৮৪-এর শিখ গণহত্যার বিষয়টির দিকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দিল্লি বিমানবন্দরের নাম গুরু নানক দেব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখার দাবি জানান তাঁরা। দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের মানুষজনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেন।

তার পর হিউস্টনে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী যে সব পদক্ষেপ করছেন, তাতে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। কাশ্মীরের ব্যাপারে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিয়ে সাত লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিতের তরফ থেকে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।        

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here