লাহৌর: ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারকে হত্যা করার অপরাধে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয় তৎকালীন ব্রিটিশ শাসক। সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ৮৬টা বছর। কিন্তু ভারতবাসী তো বটেই ভগৎ সিংহকে ভোলেনি পাকিস্তানও। তাই তাঁর মৃত্যুর এত বছর পরেও, তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য মামলা করলেন এক পাক আইনজীবী।

গত সোমবার এই মর্মে লাহৌর হাইকোর্টে নতুন করে মামলা করলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ রশিদ কুরেশি। মামলার দ্রুত শুনানির জন্যও আবেদন করেছেন তিনি। মামলায় তিনি বলেছেন, ভগৎ সিংহ একজন স্বাধীনতাসংগ্রামী ছিলেন এবং অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতার জন্য তিনি লড়েছেন। পাকিস্তানে, বিশেষ করে পঞ্জাবি শহর লাহৌরে এখনও নায়ক হিসেবে পূজিত হন ভগৎ সিংহ। লাহৌরে ভগৎ সিংহ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে রয়েছেন এই আইনজীবী।

সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষই ভগৎ সিংহকে নায়ক মনে করে, দাবি করেন কুরেশি। পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নাহও ভগৎ সিংহের প্রতি বেশ কয়েক বার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

আদালতে দায়ের করা আবেদনে কুরেশির দাবি, ‘রিভিউ’ (পর্যালোচনা) নীতি প্রয়োগ করে ভগৎ সিংহের শাস্তি রদ করার কথা ঘোষণা করুক আদালত। পাশাপাশি সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে ভগৎ সিংহকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়া যায়।

১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ সুখদেব, রাজগুরু এবং ভগৎ সিংহকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার পি সাউন্ডার্সকে খুনে অভিযুক্ত ছিলেন এই তিন জন।

শুধু আদালতে মামলা করাই নয়, লাহৌরের সদমান চকে ভগৎ সিংহের একটি মূর্তি স্থাপন করার জন্যও পাক পঞ্জাব সরকারকে চিঠিতে আবেদন করেছেন কুরেশি। তাঁর কথায়, “মূর্তি বসানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি, তবে সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।” এই সদনাম চকেই তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

কুরেশির দাবি প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হলেও, পরে আরও একটি ভুয়ো মামলায় তাঁকে ফাসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বছর তিনেক আগে আদালতের নির্দেশে শহরের আনারকলি থানার সমস্ত রেকর্ড ঘেঁটে দেখে লাহৌর পুলিশ। সেখানে সাউন্ডার্সের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা এফআইআরের একটি কপিও খুঁজে পাওয়া যায়। কুরেশির কাছে এখন ওই কপিটি রয়েছে।

উর্দুতে দায়ের করা ওই এফআইআরে লেখা রয়েছে, ১৯২৮-এর ১৭ ডিসেম্বর, বিকেল সাড়ে ৪টেয় অজ্ঞাতপরিচয় দুই বন্দুকবাজের হাতে খুন হন সাউন্ডার্স। এফআইআরে কোথাও ভগৎ সিংহের নাম উল্লেখ না করা থাকলেও, পরবর্তীকালে তাঁকেই ফাঁসি দেওয়া হয়। কুরেশির অভিযোগ এই খুনের ঘটনায় সাড়ে চারশো জন প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও, তাঁদের সাক্ষ্য ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হয় ভগৎ সিংহকে।

কুরশির পণ, “আমি ভগৎ সিংহকে নির্দোষ প্রমাণ করেই ছাড়ব।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here