মাদুরাই: শীর্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করে জল্লিকাট্টু শুরু হল। কিন্তু অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গেল না। রাজ্যের পুদুকোট্টাই জেলায় ‘ষাঁড়-যুদ্ধ’-এ অংশগ্রহণ করে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গে সারা রাজ্যে অন্তত ৮০ জনের আহত হওয়ার খবর এসেছে।

জল্লিকাট্টু শুরু হলেও, রবিবার সারা দিনই ছিল ঘটনাবহুল। জল্লিকাট্টু অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের জন্য মাদুরাইয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভম। কিন্তু বিক্ষোভের জেরে জল্লিকাট্টুর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী।

ছাড়পত্র মিললেও বিক্ষোভকারীদের এ বার দাবি কী।

তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে জল্লিকাট্টুকে যাতে আর আইনের মারপ্যাঁচে না পড়তে হয়, সে ব্যাপারে স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। ‘ষাঁড়-যুদ্ধ’র ওপর থেকে শীর্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা যে হেতু এখনও ওঠেনি, তাই বিক্ষোভকারীরা ভালোই বুঝতে পেরেছেন যে রাজ্য সরকারের এই অর্ডিন্যান্স বা রাজ্য বিধানসভায় আইন পাস হলেও তাকে আইনি বাধায় পড়তে হতে পারে।

পূর্ব ঘোষণামতো রবিবার মাদুরাইয়ের আলাঙ্গাল্লুরে জল্লিকাট্টু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সেইমতো তিনি শনিবার রাতেই মাদুরাই পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভের ফলে রবিবার সকাল পর্যন্ত হোটেলেই আটকা থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলার দিকে চেন্নাই রওনা হওয়ার আগে তিনি বলেন, “মানুষ যখন চাইবে তখনই জল্লিকাট্টু হবে।” অন্য দিকে সালেমের কুলাইমেদুতে একই দাবিতে বিক্ষোভের ফলে জল্লিকাট্টু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে পারেননি সড়কমন্ত্রী এড়াপাড়ি পালানিস্বামী।

তবে রাজ্যের বাকি অংশে ঘোষণামতোই জল্লিকাট্টু উদযাপিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ষাঁড়কে যে সফল ভাবে বাগে আনতে পারবে তার জন্য আর্থিক পুরষ্কারেরও ব্যবস্থা ছিল।

জল্লিকাট্টুর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ব্যাপারে এই সপ্তাহে রায় দিতে পারে শীর্ষ আদালত। এ দিনের এই মৃত্যুর ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবি কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here