অদৃশ্যশক্তি চুল কাটছে মেয়েদের, পশ্চিম রাজস্থানে অমূলক ভয়ে গ্রামবাসীরা

0
524

জয়পুর : কোনো এক রহস্যময় আর অলৌকিক শক্তি মেয়েদের চুল কেটে দিয়ে চলে যাচ্ছে। এমনই এক অদ্ভুত ভয় ছড়িয়েছে রাজস্থানের পশ্চিমাঞ্চলে। এই ভয় যে শুধু কাজ করছে ছোটোদের মনে তাই নয়, একই ভয় গ্রাস করেছে বড়োদেরও।

বেশ কিছু দিন ধরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ আসছে, কে বা কারা মেয়েদের চুল কেটে দিচ্ছে। তার পর থেকেই জোধপুর ও বীকানের  জেলা পুলিশ প্রশাসন এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে চলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনো একটা ঘটনা প্রচার হওয়ার পর থেকেই এই আতঙ্ক শুরু হয়েছে। তাতে তাল মিলিয়েছে স্থানীয় ভোপা বা ওঝা গোছের লোকজন। তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষও এর থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় জানতে ভয়ে তাদের কাছে আসছে। এই সুযোগটাই তারা কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলে তাদের ব্যবসায় লাভ হচ্ছে।

জোধপুর জেলার ফালোদি গ্রামের বাবুরাম মেঘওয়াল বলেন, কিছু দিন আগে তাঁর ১৩ বছরের মেয়ের চুল কেটে দেওয়া হয়। সে যখন রাতে ঘুমোচ্ছিল তখনই এই ঘটনা ঘটে। পর দিন সকালে উঠে সে কান্নাকাটি করতে থাকে। তাতেই বিষয়টি সবাই জানতে পারে। তিনি মনে করছেন, কোনো অলৌকিক ভৌতিক শক্তিই এই কাজ করেছে। কারণ যখন এই ঘটনা ঘটে তখন বাড়িতে বাইরের কোনো লোক ছিল না।

হাসপাতালের কর্মী তারাচাঁদ লক্ষ্মণ বলেন, ঘটনার সময় তিনি কাজে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, যখন তাঁর ১৪ বছরের মেয়ের চুল কেটে দেওয়া হয় সেই সময় তাঁর পরিবারকে ওষুধের ঘোরে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ ঘটনার ঠিক আগেই সকলে বসে টিভি দেখছিল। সেই সময় হঠাৎ কুলার থেকে একটা বিটকেল গন্ধ বেরোতে শুরু করে। তার পরই সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আর তার পরই ঘটনাটি ঘটে। ঘুম ভাঙার পর বাড়ির দরজার সামনে মেয়ের কাটা চুল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পর গৃহশান্তির জন্য পুজোর আয়োজন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে ১২টা এমন ঘটনা ঘটেছে জোধপুরের গ্রাম এলাকায়। তা ছাড়াও বীকানেরের একাধিক এলাকা থেকে এই ধরনের ঘটার অভিযোগ এসেছে। মহিলারা জানাচ্ছেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তাদের চুল কেটে দিচ্ছে। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনার পেছনে কাদের হাত রয়েছে, উদ্দেশ্য কী জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে শিক্ষার হার এক্কেবারে তলানিতে।

জোধপুরের এস পি বলেন, সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথা থেকে এই ধরনের খবর ছড়ানো হয়েছে তার উৎস খোঁজা হচ্ছে। রাতের বেলায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরাধীকে ধরতে পারলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশের দাবি, রাজস্থানের ভোপা সম্প্রদায়ের গুরুরা মানুষের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করছে। তার থেকে টাকা রোজগার করছে।

ঘটনার বিষয়ে পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিস-এর কবিতা শ্রীবাস্তব বলছেন, রাজ্যে একটা অবৈজ্ঞানিক সরকার রয়েছে। যারা কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দেয়। সরকারের উচিত ঠিক ভাবে ব্যবস্থা নিয়ে এই কুসংস্কার মানুষের মন থকে দূর করা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here