নয়াদিল্লি : মৃত বলে প্যাকেটে মুড়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল যমজ শিশুটিকে। নিয়মমতো ছয় ঘণ্টা পরে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা প্রায় শেষ। বাকি খালি মাটি চাপা দেওয়া। হঠাৎ হাতের মোড়কটা যেন নড়ে উঠল। ঠিক তাই, শিশুর শরীরে স্পন্দন। বরাত জোরে বাঁচল এক রত্তি একটা প্রাণ।

ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। উত্তর দিল্লির শালিমার বাগের বিখ্যাত ম্যাক্স হাসপাতালের পিছনের দরজা দিয়ে দুই সদ্যোজাতকে মৃত বলে তুলে দেওয়া হয়েছিল বাড়ির লোকের হাতে। তাও এক্কেবারে গিফট প্যাক করে দেওয়ার মতো প্যাকেটে মুড়ে। বলা হয়েছিল মৃতই জন্মেছে এই দুই নবজাতক।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নবজাত শিশুর দাদু কৈলাসবাবু বলে, হাসপাতাল থেকে তখন প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে। নড়াচড়া বুঝতে পেরে প্যাকেট খুলে দেখেন এক জন বেঁচে আছে। শ্বাস নিচ্ছে।

সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কাশ্মীরী গেট এলাকার একটি হাসপাতালে। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

এর পর ম্যাক্স হাসপাতালে পরিবারের লোকজন বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ম্যাক্স হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটানার জন্য যিনি দায়ী, সেই ডাক্তারকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২২ সপ্তাহের প্রি-ম্যাচুয়র বেবি এরা। তাদের মধ্যে প্রাণের কোনো লক্ষণ না দেখতে পেয়েই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই বিষয়ে তদন্ত করা হবে। পরিবারের লোকেদের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।

অপর একটা ঘটনা। ঘটনা গুরগাঁও-এর ফর্টিস হাসপাতালের। সাত বছরের একটি শিশুকন্যা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ১৮ লক্ষ টাকার বিল না দেওয়া পর্যন্ত মৃতদেহ নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। এই ১৮ লক্ষের মধ্যে ছিল ২ হাজার ৭০০টা গ্লাভসের দামও। সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।